চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে চুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

কোটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবিতে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সকল সাধারণ শিক্ষার্থী। এসময় ব্যারিকেড দিয়ে আধ ঘণ্টা রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১০ জুলাই) বেলা ৩টায় চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়ক অবরোধ করে চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে শুধুমাত্র অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, আদিবাসী, নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য যথাযথ কোটা রেখে কোটা সংস্কার করতে হবে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্মের জন্য কতোখানি কোটা বরাদ্দ করা প্রয়োজন, তা নিয়ে স্থায়ী সমাধানে আসতে হবে।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাশাক আল আবিদ বলেন, আমাদের দাবি একটাই, এই অযৌক্তিক ৫৬% কোটা বহাল না রেখে সুবিধাবঞ্চিত, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী, নারী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তৃতীয় প্রজন্মের সন্তানদের জন্য যৌক্তিক কোটা আপ্যায়ন করা হোক। অর্থাৎ একটি সংগতিপূর্ণ কোটা সংস্কার করে মেধাবীদের দেশ গড়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক।

পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাফুজার রহমান মোহাব্বত বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরেও এই বৈষম্যমূলক কোটা আমরা সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে করি। আমরা চাই, সরকার সকল গ্রেডের চাকরিতে অনগ্রসর এলাকা, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে কোটা সংস্কার করবে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠনের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের যে ত্যাগ, তাদের জীবনদানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করি৷ তাই তাদের তৃতীয় প্রজন্মের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার করে নির্বাহী আদেশ দিতে হবে। মোট কোটা ৫% এ সীমাবদ্ধ করতে হবে।

গত ৫ মে সরকারি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্য কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন উচ্চ আদালত। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৫৬ শতাংশ কোটা বহাল থাকবে। এরপর থেকে আন্দোলনে নামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

জেডএস/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!