চট্টগ্রাম কাঁপানো ভোটে ১৪ আসন বিএনপির ঝুলিতে, শেষ দুইয়ে জামায়াতের সান্ত্বনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলাফলে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের ১৪টি আসনে বিএনপি, দুটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নগর ও জেলা মিলিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১ হাজার ৯৬৫টি। গতবারের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৮টি কম।

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি পুরোপুরি মহানগরীতে। ১০টি আসন জেলার ভেতরে। বাকি তিনটি আসন মহানগরী ও জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই)
এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৩১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৮৩ ভোট।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি)
এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬২ হাজার ১৬০ ভোট ভোট।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ)
এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫১৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আলা উদ্দীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৫১৯ ভোট। এই আসনে পোস্টাল ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৭৮৪টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৫০৫ ভোট দাঁড়িপাল্লা এবং ধানের শীষ পেয়েছে ৬৮৪ ভোট।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ভোট।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৬ ভোট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান মঞ্জু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ২১ হাজার ১৩ ভোট।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৬৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ডা. এটিএম রেজাউল করিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৮ হাজার ৬৬৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫৩০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান পেয়েছেন ২২ হাজার ৫৩২ ভোট।

এছাড়া আলোচনায় থাকা একই জোটের দুই প্রার্থী— জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু নাসের  দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ২৮৬ ভোট, আর এনসিপির শাপলা প্রতীক নিয়ে মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন ৮৫৮ ভোট।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সুফিয়ান। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর ডা. ফজলুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬০১ ভোট। ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে শুধু একটি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া যায়নি। তবে আবু সুফিয়ানের জয়ের ব্যবধান এই কেন্দ্রের মোট ভোটারের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আল নোমান। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৮ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর শামসুজ্জামান হেলালী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৩৪ ভোট। ১৩৯টি কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া যায়নি। তবে সাঈদ আল নোমানের জয়ের ব্যবধান এসব কেন্দ্রের মোট ভোটারের চেয়ে বহুগুণ বেশি।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৫’হাজার ২১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শফিউল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫২ ভোট।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক এনাম। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮০৬ ভোট। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফরিদুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪০ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৩৩৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৬১ ভোট। এছাড়া মাহমুদুল হাসান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ২১ হাজার ৩৯১ ভোট পেয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার একাংশ)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এলডিপির ওমর ফারুক ছাতা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়ার একাংশ ও লোহাগাড়া)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা)। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)

এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা)। তিনি পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট।

ksrm