চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগ নেতার হাতে কর্মকর্তা লাঞ্ছিত, সান্ত্বনা পেড়ে মীমাংসা

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের এক নেতার হাতে এবার লাঞ্ছনার শিকার হলেন কলেজেরই এক কর্মকর্তা। ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কলেজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও সান্ত্বনা ছাড়া মেলেনি কিছু। এর আগেও কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ কলেজটির প্রধান সহকারী গোলাম কিবরিয়াকে পিটিয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন।

বুধবার (৩ জুলাই) চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ ভবনের প্রধান অফিস সহকারীর রুমে ঘটনাটি ঘটে। তবে খবরটি জানাজানি হয় বুধবার (১০ জুলাই)।

জানা গেছে, কলেজ ছাত্রলীগের কথিত ‘সাবেক সহ-সভাপতি’ মনির উদ্দিন ওরফে জেড মনির কম্পিউটার অপারেটর নুরুল আলমকে লাঞ্ছিত করেন। নুরুল আলম কলেজের অস্থায়ী কর্মকর্তা। এদিকে জেড মনির চকবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুর মোস্তফা টিনুর অনুসারী।

তবে মনির নিজেকে চট্টগ্রামে কলেজের ‘সাবেক সহ-সভাপতি’ পরিচয় দিলেও তাকে ‘ভুয়া সহ-সভাপতি’ বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ। সাবেক সভাপতি মাহমুদুল করিমও বলেছেন, ‘জেড মনির কখনোই আমাদের কমিটির সহ-সভাপতি ছিল না। সে নিজেকে দাবি করে।’

কম্পিউটার অপারেটর নুরুল আলম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘বুধবার (৩ জুলাই) জেড মনির এক মেয়েকে নিয়ে এসে বলে ওকে ভর্তি করিয়ে দেন। মেয়েটি মাস্টার্সে ভর্তি হতে চাইলেও সে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তিরই অনুমোদন পায়নি। এছাড়াও সেদিন আমাদের কলেজের বাজেটের কাগজপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় আমরা সবাই কিছুটা ব্যস্ত ছিলাম। তাই মনিরকে পরে আসতে বলি। তাছাড়া এখন আমাদের রুমে ঢোকাও দাপ্তরিক নিষেধ আছে।’

নুরুল আলম বলেন, ‘এটা বলার পরই মনির বলে ‘কোন চোদানির পোয়া কইয়ে দে?’ আমি বলি, প্রিন্সিপাল বলেছেন। এটা বলার পরই সে আমার কম্পিউটারের মনিটর নিয়ে প্রথমে আমাকে মারতে উঠে। পরে লাঠি দিয়ে মারতে তেড়ে আসে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সে উল্টো আমাকে হুমকি দিয়ে বলে, ‘যা করতেছো ভালো করতেছো না, তোমাকে এটার জন্য পস্তাতে হবে।’

জানা গেছে, নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিলেও মনির উদ্দিন ওরফে জেড মনির বর্তমানে কলেজের ছাত্রই নন। তিনি ২০১৯ সালে ইতিহাস বিষয়ে মাস্টার্স পাশ করেন। মাহমুদ-সবুজ কমিটিতে নাম না আসায় অভিমানে কলেজে আসাই বন্ধ করে দেন তিনি। তবে সম্প্রতি কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দেওয়ার পর ফের কলেজ রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি।

এই ঘটনার পর পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন নুরুল আলম। চকবাজার থানার পুলিশ নুরুকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা বললেও পরে কলেজ প্রশাসন বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়।

মীমাংসার বিষয়ে কলেজটির উপাধ্যক্ষ সুব্রত বিকাশ বড়ুয়া বলেন, ‘বিষয়টা আমরা জেনেছি। এরপর অভিযুক্ত ওই ছাত্রনেতাকে ডেকে ভবিষ্যতে এরকম না করার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।’

যদিও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জেড মনির বলছেন অন্য কথা। চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘তিনি (নুরুল আলম) ওই দিন ব্যস্ততা দেখিয়েছেন এবং পারবেন না বলে বলেছেন, আমি তাকে অনুরোধ করার পরও তিনি কথা শোনেননি। এরপর আমি আর কিছু না বলে চলে এসেছি। সেখানে অন্য কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

বিএস

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!