s alam cement
আক্রান্ত
১০২৩১৪
সুস্থ
৮৬৮৫৬
মৃত্যু
১৩২৮

চট্টগ্রাম কলেজের উর্দু বিভাগে ৩৫ বছর ধরে শিক্ষার্থী নেই, শিক্ষকের পদায়ন চলে নিয়মিত

0

৩৫ বছর ধরে নেই কোনো শিক্ষার্থী। তারপরও কাগজে-কলমে আছে বিভাগটি। ৩৫ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের কোনো আনাগোনা না থাকলেও বিভাগটিতে নিয়মিত পদায়ন হয় শিক্ষকদের। বিভাগটিতে শিক্ষকদের শূন্য পদের সুযোগ নিয়ে অন্য বিভাগের শিক্ষকরা বদলি হয়ে আসেন চট্টগ্রামের শীর্ষ এই কলেজটিতে।

চট্টগ্রামের শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজের ‘উর্দু’ বিভাগের অবস্থা এরকমই। ১৫০ বছরেরও পুরনো এই কলেজের উর্দু বিভাগে শেষ কবে ছাত্র ভর্তি হয়েছিলেন সেটাই জানে না কলেজ কর্তৃপক্ষও। কিন্তু কাগজে-কলমে যুগের পর যুগ চলছেই বিভাগটি। আর সেই সুযোগে অচল বিভাগটির শিক্ষক শূন্যতা দেখিয়ে নিয়মিত চট্টগ্রাম কলেজে বদলি হয়ে আসছেন শিক্ষকরা। যদিও তারা উর্দু বিভাগের শিক্ষক নন। কলেজের অন্য বিভাগের শিক্ষকরা উর্দু বিভাগের ফাঁকা পদগুলোতে পদায়ন হচ্ছেন নিয়মিত।

জানা গেছে, ইসলাম শিক্ষার এক শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন হয়েছিলেন উর্দু বিভাগে। কারণ ওই সময় ইসলাম শিক্ষার শিক্ষক পদটি পূর্ণ থাকায় তিনি উর্দু বিভাগের খালি পদে এসে চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি পদোন্নতি নিয়ে সহযোগী অধ্যাপক হয়ে তার নিজস্ব বিভাগে ফিরে গেছেন।

এরকম আরও একজন আছেন পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক। তিনিও পদ খালি না থাকায় পরিসংখ্যানের শিক্ষক হয়েও চট্টগ্রাম কলেজের উর্দু বিভাগে বদলি হয়ে আসেন।

এরকম আরও এক শিক্ষক চট্টগ্রাম কলেজের এই ‘অচল’ বিভাগে আসার জন্য তোড়জোড় চালাচ্ছেন বলে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কলেজে বদলি হয়ে আসার জন্যই মূলত অচল এই উর্দু বিভাগকে ব্যবহার করে আসছেন শিক্ষকরা।

চলতি বছরের ২৩ সেপ্টেম্বরের একটি নথিতে দেখা গেছে, শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকায় উর্দু বিভাগে প্রফেসর ও এসোসিয়েট প্রফেসর পদটি শূন্য রয়েছে। তবে অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর ও লেকচারার পদে একজন করে মোট দুজন শিক্ষককে দেখানো হয়।

সারাদেশে মোট ৬টি সরকারি কলেজে আছে এই উর্দু বিভাগ। এর মধ্যে একটি চট্টগ্রাম কলেজ। বিভিন্ন সময় বিসিএসের মাধ্যমে এসব বিভাগের জন্য শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনটি সরকারি কলেজ ও দুই অধিদপ্তরে পাঁচজন কর্মরত রয়েছেন। যাদের একজন ২৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার ও চারজন ৩৩তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তর সূত্র জানা গেছে, চট্টগ্রাম কলেজ ছাড়াও রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, রাজশাহী কলেজ, সিলেট এমসি কলেজ, সিলেট আলিয়া মাদরাসা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে উর্দু বিভাগ রয়েছে।

এর মধ্যে কারমাইকেল কলেজ, রাজশাহী কলেজ ও সিলেট আলিয়া মাদরাসায় একজন করে উর্দু শিক্ষক রয়েছেন। আর মাউশি অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখা এবং মাদ্রাসা অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন একজন করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কলেজে উর্দু নামে যে একটি বিভাগ আছে, সেটিই জানেন না কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক। কলেজের এক ছাত্র রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি কখনও এ ধরনের বিভাগের অস্তিত্বের কথাও কারও মুখে শোনেননি। তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজে এই বিভাগটি আছে সেটা আজ প্রথম আপনার থেকে শুনলাম।’

উর্দু বিভাগের বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ মুজিবুল হক চৌধুরী বলেন, ‘উর্দু একটি ভাষা। আমাদের কলেজে সংস্কৃত, বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও পালির মত এটাও একটা বিভাগ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই বিভাগটি ছাত্রশূন্য হয়ে পড়ে আছে। এখন উর্দু বিভাগটি আপাতত কাগজে কলমে আছে। যদি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই বিভাগটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চান, তবে সেই উদ্যোগটি ওনাদের নিতে হবে।’

তবে কবে এই বিভাগটিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল এবং শেষ কবে ছাত্র ভর্তি হয়েছিল— এমন কোনো তথ্য জানা নেই বলে জানান কলেজ অধ্যক্ষ মুজিবুল হক চৌধুরী।

চট্টগ্রাম কলেজের প্রধান অফিস সহকারী গোলাম কিবরিয়ার কাছে গিয়েও এ ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ কবে ছাত্র ভর্তি হয়েছিল— এমন হিসাব সঠিকভাবে দিতে না পারলেও অনুমান করে তিনি বলেন, সময়টি অন্তত ৩০-৩৫ বছরের কম হবে না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যদি শিক্ষার্থী না থাকে তাহলে সেই বিভাগের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমার মনে হয় না। ব্যাপারটি আমরা বিস্তারিত জেনে এ ব্যাপারে করণীয় ঠিক করব।’

সিপি

ManaratResponsive

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm