বকেয়া আদায়ে বিশেষ তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর সুফল মিলেছে চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব আদায়ে। সেপ্টেম্বর মাসে সংস্থাটির রাজস্ব আদায় দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে সংস্থাটির মাসিক রাজস্ব আদায় ১৮ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে চলতি বছরের আগস্টে আদায় হয় ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর পরের মাসেই তা বেড়ে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় পৌঁছায়।
সেপ্টেম্বরের মোট আদায়ের মধ্যে শুধু পানির বিল থেকেই এসেছে ২৬ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে চলতি বিল বাবদ ১৪ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার টাকা এবং বকেয়া বিল থেকে আদায় হয়েছে ১২ কোটি ১৪ হাজার টাকা।
এছাড়া সারচার্জ থেকে ৮০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, গভীর নলকূপ ফি বাবদ ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নতুন সংযোগ খাত থেকে ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আদায় করেছে ওয়াসা।
ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, রাজস্ব আদায় বাড়াতে ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের তালিকা করে বিশেষ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এসব গ্রাহকের পানির সংযোগ সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে গ্রাহকদের তথ্য হালনাগাদ, অবৈধ সংযোগ শনাক্ত এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার হিসাবে, সংস্থাটির মোট বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কাছে পাওনা রয়েছে ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বকেয়া রয়েছে ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
বকেয়া আদায়ের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে ওয়াসা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি লাইসেন্স ছাড়া গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হচ্ছে আইনগত ব্যবস্থা।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, রাজস্ব আদায়ে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গঠিত দলগুলো এলাকাভিত্তিক কাজ করছে। বকেয়া থাকা গ্রাহকদের বিল পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এর আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ে কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আইএমই/ডিজে




