চট্টগ্রাম ওয়াসার খাতায় কোটির গরমিল, ব্যাংক বইয়ে এক অঙ্ক, স্টেটমেন্টে আরেক
পুরনো চেক পড়ে আছে ২০১৬ সাল থেকে
চট্টগ্রাম ওয়াসার খাতায় কিছু টাকা যেন সময়ের সঙ্গে আটকে গেছে। কোনোটি সাপ্লায়ারের পাওনা হিসেবে বছরের পর বছর পড়ে আছে, কোনোটি অগ্রিমের হিসাব থেকে মুছে যায়নি, আবার কোনো চেক ২০১৬ সাল থেকে ব্যাংকেই জমা পড়েনি। তিনটি ব্যাংক হিসাবে এমনও দেখা গেছে, ব্যাংক স্টেটমেন্টে যেখানে ব্যালান্স শূন্য, ওয়াসার হিসাববইয়ে সেখানে প্রায় ৯ কোটি টাকা ঋণাত্মক; আরেক হিসাবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ৪১ লাখ টাকা থাকলেও হিসাববইয়ে দেখানো হয়েছে ১৭ কোটি টাকার বেশি ঋণাত্মক ব্যালান্স। সব মিলিয়ে অডিটে উঠে এসেছে বছরের পর বছর সমন্বয় না হওয়া ২৬ কোটি টাকার বেশি চেক এবং ৯৮ কোটি টাকার বেশি পুরোনো সাপ্লায়ার পাওনার তথ্য। এর মধ্যেই ওয়াসার নিজস্ব অডিট শাখায় কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এত বছরের হিসাবের গরমিলগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা, যাচাই ও সমন্বয়ের প্রক্রিয়ায় আটকে থাকল কীভাবে?
২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাবের ওপর ২০২৫ সালের ৯ জুন চট্টগ্রামে স্বাক্ষরিত অডিট প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান এমআরএইচ দে এন্ড কোম্পানি।
তবে এই অডিটটি ওয়াসার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অডিট নয়। পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)-এর মতো সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার জন্য বেসরকারি অডিট ফার্ম বা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইন, ১৯৯৬’ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিধিমালার আলোকে এ অডিট কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৯৬ সালের ওয়াসা আইনের আর্থিক ও হিসাব রক্ষণ-সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী প্রতি অর্থবছর শেষে আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণী প্রস্তুত করতে হয়। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রাক-অনুমোদিত ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) নিবন্ধিত পেশাদার অডিট ফার্ম সেই হিসাব স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করে।
বেসরকারি অডিটের পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রাম ওয়াসা মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)-এর সরকারি অডিটের আওতাতেও থাকে। সিএজি কার্যালয় মূলত সরকারি তহবিলের ব্যবহার ও বিধিসম্মত ব্যয় যাচাই করে। অন্যদিকে বেসরকারি অডিট ফার্ম প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক হিসাবের আর্থিক ও ব্যবহারিক দিক আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুযায়ী মূল্যায়ন করে।
৯৮ কোটির বেশি পুরোনো সাপ্লায়ার পাওনা
অডিট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘অ্যাকাউন্ট পেয়েবল’ বা সাপ্লায়ারদের পাওনা ছিল ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৫ টাকা। এর মধ্যে ৯৮ কোটি ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৭০ টাকা দীর্ঘদিন ধরে হিসাবের মধ্যে বহন করা হচ্ছে।
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পুরোনো পাওনার ক্ষেত্রে সাপ্লায়ারের নাম, ঠিকানা, লেজারসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক নথি যথাযথভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব অর্থের প্রকৃত দাবিদার কারা, সংশ্লিষ্ট সাপ্লায়াররা এখনো কার্যকর আছেন কি না, পণ্য বা সেবা সরবরাহের বিপরীতে এসব পাওনা সৃষ্টি হয়েছিল কি না এবং বর্তমানে তা পরিশোধযোগ্য কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
তবে অডিটররা জানিয়েছেন, এই পর্যবেক্ষণের কারণে তাঁদের অডিট মতামত পরিবর্তিত হয়নি। অর্থাৎ এসব হিসাব-সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ থাকলেও অডিট মতামতের ধরনে তার প্রভাব পড়েনি।
অগ্রিমেও অনিষ্পন্ন কোটি টাকা
সাপ্লায়ারদের দেওয়া অগ্রিম অর্থের হিসাবেও দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন অংশ রয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে সাপ্লাইয়ার অ্যাডভান্স হিসেবে ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৩ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৭৮ লাখ ৫৬ টাকা দীর্ঘদিন ধরে হিসাবের মধ্যে বহন করা হচ্ছে।
অডিটরদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই পুরোনো অগ্রিমের বিপরীতে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ও সহায়ক নথি পাওয়া যায়নি। অর্থের বিপরীতে পণ্য বা সেবা সরবরাহ হয়েছে কি না, অর্থ সমন্বয় করা হয়েছে কি না কিংবা অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সেসব বিষয়েও যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এলসির বিপরীতেও ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা
লেটার অফ ক্রেডিট বা এলসির বিপরীতেও ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫৫ টাকা দীর্ঘদিন ধরে হিসাবের মধ্যে রয়েছে।
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থের বিষয়ে পর্যাপ্ত ও যথাযথ ‘অডিট এভিডেন্স’ পাওয়া যায়নি। ফলে অর্থটি আদায়যোগ্য কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনে এর কোনো অংশ হিসাব থেকে বাদ দিতে ‘রাইট-অফ’-এর ব্যবস্থা প্রয়োজন কি না, সেটিও নিশ্চিত করা যায়নি।
ব্যাংক হিসাবে বছরের পর বছর সমন্বয় হয়নি
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় সরবরাহকারীদের নামে ইস্যু করা বিপুল অঙ্কের চেক বছরের পর বছর সমন্বয় না হওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
জনতা ব্যাংক লিমিটেড, ওয়াসা করপোরেট শাখার STD-52311 নম্বর হিসাবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ব্যালান্স শূন্য হলেও ব্যাংক বইয়ে ৮ কোটি ৯৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮২৮ টাকা ঋণাত্মক ব্যালান্স দেখানো হয়েছে। অডিট নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সরবরাহকারীদের দেওয়া চেকগুলো এখনো সমন্বয় করা হয়নি।
একই শাখার STD-0100014594226 নম্বর হিসাবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ছিল ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৪৯ টাকা ৭৬ পয়সা। বিপরীতে ব্যাংক বইয়ে দেখানো হয়েছে ১৭ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ৫২৬ টাকা ঋণাত্মক ব্যালান্স। এই হিসাবেও ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইস্যু করা চেক দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন রয়েছে।
অন্যদিকে STD-0100018094872 নম্বর হিসাবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ২৩৬ টাকা। ব্যাংক বইয়ে ওই হিসাবে ১০ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৭ টাকা ঋণাত্মক ব্যালান্স দেখানো হয়েছে। এখানেও পুরোনো সরবরাহকারী চেক সমন্বয় না করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
নথির মন্তব্যে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যাংক বই থেকে ব্যক্তিগত সরবরাহকারীদের নামে ইস্যু করা চেকের টাকা ডেবিট করা হলেও সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের ব্যাংক হিসাবে সেসব চেক জমা পড়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এসব ‘আউটস্ট্যান্ডিং চেক’ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি বা সমন্বয় ছাড়াই পড়ে রয়েছে।
অডিট পর্যবেক্ষণে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বছরের পর বছর ধরে ইস্যু করা চেকগুলো কেন ব্যাংকে উপস্থাপন করা হয়নি এবং ব্যাংক বই ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের মধ্যে এত বড় অমিল কেন রয়ে গেছে। এসব হিসাব দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং পুরোনো অনিষ্পন্ন চেকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা অডিট আপত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্র্যাচুইটি প্রভিশন ৬ কোটি ৯৪ লাখ
কর্মচারীদের গ্র্যাচুইটি হিসাবেও অডিট আপত্তি রয়েছে। অডিট প্রতিবেদনে ৬ কোটি ৯৪ লাখ ২২ হাজার ৬৭৩ টাকা গ্র্যাচুইটি প্রভিশনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এ অর্থের জন্য আলাদা কোনো গ্র্যাচুইটি ফান্ড ব্যাংক হিসাব খোলা হয়নি। সংশ্লিষ্ট হিসাবকালেও এই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। ফলে কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই প্রভিশনের সম্ভাব্য কর-প্রভাব নিয়েও অডিটররা প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রকল্পের হিসাবে ৩ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা
চট্টগ্রাম ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোর হিসাবেও বড় অঙ্কের অর্থের তথ্য উঠে এসেছে। অডিট রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরুতে প্রকল্পগুলোর স্থিতি ছিল ৪ হাজার ১৮৫ কোটি ২৯ লাখ ৩৮ হাজার ৬৪৬ টাকা। ওই অর্থবছরে আরও ১ হাজার ১০০ কোটি ৯৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৩২ টাকা সংযোজনের পর স্থিতি দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৮৬ কোটি ২৪ লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকা।
এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে একই পরিমাণ স্থিতি ছিল। ওই অর্থবছরজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পে আরও ১ হাজার ২৪৩ কোটি ১ লাখ ৬১ হাজার ৩০ টাকা সংযোজন করা হয়। একই সময়ে ৩ হাজার ১৪৩ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার ৭৪৩ টাকা মূলধনীকরণ বা ক্যাপিটালাইজড করা হয়েছে। ফলে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পগুলোর সমাপনী স্থিতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৩৮৫ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৬৮ টাকা।
অডিট রিপোর্টের হিসাবে, অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বড় অঙ্কের সম্পদ প্রকল্প থেকে মূলধনী সম্পদ হিসেবে স্থানান্তর বা মূলধনীকরণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ভান্ডালজুড়ি প্রকল্প, সিডব্লিউএসআইএসপি, কর্ণফুলী ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট-২, পিইএসএসসিএম-১ সহ বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ অডিটে কর্মী মাত্র তিনজন
বহিঃনিরীক্ষার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ওয়াসার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ অডিট ব্যবস্থাও চালু আছে। ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, এ শাখার মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক অপচয় ও অনিয়ম রোধ করা। রাজস্ব সংগ্রহ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান রয়েছে।
কোনো বিল পরিশোধের আগে নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র অডিট শাখায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। অডিট বিভাগ থেকে ছাড় দেওয়া হলে তাতে সিল দেওয়া হয়। এরপর বিলটি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমোদনের জন্য যায়।
বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসার অডিট শাখায় কর্মরত রয়েছেন তিনজন। তাঁদের মধ্যে সিনিয়র অডিট অফিসার রক্তিম দেব, একজন অডিট সহকারী এবং একজন অডিট অফিস সহায়ক।
তবে এই জনবল চাহিদার তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মো. জানে আলম বলেন, একটি দক্ষ অডিট বিভাগ গড়ে তোলা হলে আর্থিক শৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে। বিভাগটি সমৃদ্ধ হলে আর্থিক লেনদেনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বাড়বে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলত্রুটিও দ্রুত সংশোধন করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, অডিট বিভাগে আরও ১০ জন লোকবল দরকার। প্রয়োজনীয় জনবল থাকলে বিভাগটিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব হতো। শুধু অডিটর সংকটের কারণে চট্টগ্রাম ওয়াসায় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় এই ঘাটতি ৭০ শতাংশ।
ফরেনসিক অডিটের জনবলও নেই
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে ফরেনসিক অডিট জানা পেশাদার জনবলের ঘাটতি রয়েছে।
আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র বের করে দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য ফরেনসিক অডিট প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের আস্থা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অডিট গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অডিট প্রতিবেদনে উঠে আসা দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন পাওনা, পুরোনো অগ্রিম, এলসি-সংক্রান্ত অর্থ, ব্যাংক বই ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের অমিল এবং বছরের পর বছর সমন্বয় না হওয়া চেকগুলো চট্টগ্রাম ওয়াসার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত হিসাব পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
সরকারি ও বেসরকারি, দুই স্তরের অডিট ব্যবস্থার পাশাপাশি ওয়াসার অভ্যন্তরীণ অডিট কার্যক্রম কার্যকরভাবে চালানো গেলে আর্থিক শৃঙ্খলা, আইনি কমপ্লায়েন্স, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরও জোরদার করা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সিপি



