চট্টগ্রাম ওয়াসায় এক পদে দুই দফা নিয়োগ পরীক্ষার মূল্য ৮৭ লাখ, তিন বছরে তিন গুণ

আগের পরীক্ষা ঝুলিয়ে রেখেই নতুন আয়োজন

তিন বছর আগে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে একই পদে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। আগের বারের তুলনায় এবার পরীক্ষা আয়োজনের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ঠিক তিন গুণ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৩৭ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষার অপেক্ষা আর শেষ হয়নি, এরই মধ্যে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন করে ৯ হাজার ৪০৮ জন প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে সংস্থাটি।

এর আগে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল ‘সহকারী প্রকৌশলী’ ও ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ পদে নিয়োগের একই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা।
এর আগে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল ‘সহকারী প্রকৌশলী’ ও ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ পদে নিয়োগের একই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল চট্টগ্রাম ওয়াসা।

পুরোনো নিয়োগের ইতিবৃত্ত

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ এপ্রিল ২০২২। সেদিন ‘সহকারী প্রকৌশলী’ ও ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ পদে নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। তবে সেই বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদের সংখ্যা উল্লেখ করা ছিল না। বিজ্ঞপ্তির পর গত ১২ মে ২০২৩ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) এর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, সহকারী প্রকৌশলী পদে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩৭ জন প্রার্থী।

২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর ‘সহকারী প্রকৌশলী’ ও ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়।
২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর ‘সহকারী প্রকৌশলী’ ও ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়।

এরপর গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ মৌখিক পরীক্ষার জন্য সময়সূচি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া আর আলোর মুখ দেখেনি।

অপ্রকাশিত ফল ও অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসা প্রশাসন ও সিন্ডিকেটের পছন্দের প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়ায় তখন মৌখিক পরীক্ষা আর নেওয়া হয়নি। একইভাবে সে সময় উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের পরীক্ষাও চুয়েটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই পরীক্ষার ফলাফল আর কখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। তৎকালীন সময়ে চুয়েটে এই পরীক্ষা আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার খরচ হয়েছিল ২২ লাখ টাকা।

তিন গুণ বেড়েছে ব্যয়

পুরোনো নিয়োগ সম্পন্ন না করেই তিন বছর পর গত ডিসেম্বর মাসে একই পদগুলোতে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ওয়াসা। এবারও পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চুয়েটকে। তবে এবার পরীক্ষা আয়োজনের ব্যয় গতবারের তুলনায় তিন গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ টাকায়। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মধ্যে ৮০ শতাংশ টাকা চুয়েট রেজিস্ট্রারের অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে অগ্রিম পরিশোধ করতে হবে। বাকি ২০ শতাংশ টাকা পরীক্ষার ফলাফল হস্তান্তরের সাত দিনের মধ্যে প্রদানের শর্ত রয়েছে।

চুয়েটের চিঠি

গত ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক শারমিন আলমকে জানানো হয়, ‘সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে মোট ৯৪০৮ জন প্রার্থীর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি, প্রার্থীদের সিট বসানো, পরিদর্শক নিয়োগ, পরীক্ষা শেষান্তে উত্তরপত্র পরীক্ষণ ও ফলাফল প্রদানসহ এতদসংক্রান্ত যাবতীয় কার্য সম্পাদনের জন্য সর্বসাকুল্যে ৬৫,৮৫,৬০০/- (পঁয়ষট্টি লক্ষ পঁচাশি হাজার ছয়শত) টাকার (ভ্যাট ও ট্যাক্স ব্যতীত) ৮০% টাকা ‘রেজিস্ট্রার, চুয়েট’-এর অনুকূলে ব্যাংক ড্রাফট মারফত অগ্রিম এবং বাকি ২০% টাকা পরীক্ষার ফল হস্তান্তরের ৭ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে।’

পরীক্ষার সময় ও পদসংখ্যা

গত ৩১ ডিসেম্বর চুয়েট ক্যাম্পাসে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ এবং দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ‘সহকারী প্রকৌশলী’ পদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবারের বিজ্ঞপ্তিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ১৪ জন ও সহকারী প্রকৌশলী পদে ৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই পদে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪০৮ জন। তবে ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তিতে যারা আবেদন করেছিলেন, তাদের নতুন করে আবেদন করতে না বলা হলেও লিখিত পরীক্ষায় টিকে থাকা সেই ৩৭ প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্য

সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরও কেন মৌখিক পরীক্ষা নেননি, তার উত্তর জানা নেই। আমি সেই দায়ভার নিতেও রাজি নই।’

তিনি আরও জানান, ওয়াসায় লোকবল প্রয়োজন এবং প্ল্যান্ট পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশলী দরকার। মূলত এ কারণেই নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিজে

ksrm