চট্টগ্রামে ৯ কোটি টাকার হাট নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের অনিয়ম

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ১৯টি হাটবাজারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুনাফা আসে সাগরিকা পশুর হাট থেকে। আর ইজারাদারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ বাজারটি নিয়েই এখন অনিয়ম করছে সিটি কর্পোরেশন। দু’দফা ইজারা আহ্বান করার পরও সাড়া না মিললে এখনও পর্যন্ত আর ইজারা আহ্বান করেনি প্রতিষ্ঠানটি। মন্ত্রণালয়ের নিয়ম না মেনে আগের ইজারাদার দিয়েই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তুলছে সিটি কর্পোরেশন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের হাট বাজারের ইজারা সম্পর্কিত নীতিমালার ২.১০ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, দরপত্রে যদি কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়া যায় তবে পরপর চার বার দরপত্র আহ্বান করতে হবে।

এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তৃতীয় বার আরও ইজারার দরপত্র আহ্বান করেনি সিটি কর্পোরেশন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের লোক দিয়ে ইজারার টাকা তোলার কথা থাকলেও সেই নিয়মও তারা মানেনি। বাজার থেকে এখনও ইজারার টাকা তুলছে আগের ইজারাদার। যার ফলে সরকার ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ কর হারাচ্ছে।

ইজারা নীতিমালা অনুসারে, যে কোন হাট বাজার বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে এক বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। যার মেয়াদকাল ১ বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে ৩০ চৈত্র শেষ হয়। সেই হিসেবে গত ৩০ চৈত্র অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল ইজারদারের সময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার যোগসাযোশে অনিয়ম করে বেড়াচ্ছে দু’পক্ষ মিলে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা দেওয়া হয়। আর এই বছর হাটের ইজারাদর নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর আগে ২০১৭ সালে দরপত্রের চেয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা কমে ওই হাট ইজারা দিতে বাধ্য হয় কর্পোরেশন।

সরেজমিন সাগরিকা পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে (১৪৩০ বাংলা) হাটের দায়িত্ব পাওয়া আসিকুর রাব্বী চৌধুরী নোমানের বানানো টোকেনেই নেওয়া হচ্ছে টাকা। এর আগে বছর ২০২২ সালে (১৪২৯ বাংলা) হাটের দায়িত্ব নেন নোমানেরই আপন ভাই ফজলে করিম চৌধুরী আরমান। তবে আরমানের যে পরিমাণ টাকা সিটি কর্পোরেশনকে দেওয়ার কথা ছিল তিনি সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করেই গা-ঢাকা দেন।

প্রায় এক কোটি টাকারও বেশি কর্পোরেশনকে না দিয়ে আরমান বাজার ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে।

তবে হাটে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পরের বছর ভাইকে সামনে রেখে আবারও ইজারা নেন তিনি।

২০২৪ সালেও (১৪৩১ বাংলা) নানা কৌশলে হাটের দায়িত্ব নিতে মরিয়া দুই ভাই। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ও সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা।

এদিকে দিদার নামে একজনকে বাজার দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানায় সিটি কর্পোরেশন। যদিও বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের লোকজনই টাকা তুলছেন।

এই বিষয়ে কথা হলে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দু’বার টেন্ডার (দরপত্র) আহ্বান করেও কোনো সাড়া পাইনি। তাই বাজারটি পরিচালনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই নতুন টেন্ডার আহ্বান করে, নতুন কাউকে হাটটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কারণ এই হাটটি আমাদের কর্পোরেশনের সব থেকে বড় পশুর হাট এবং অন্যতম লাভজনক অ্যাসেট।’

আগের ইজারাদার টাকা তুলছেন—এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, এরকম তো টাকা কালেকশনের নিয়ম নেই। বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

পুরোনো রশিদ দিয়ে টাকা তোলার কথা স্বীকার করেন নোমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন থেকে আবারও দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে ২০২৩ সালে আমরা তিনজন মিলে বাজারটি নিলেও এবার শুধু একজনকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় ছাপানো রশিদগুলো থেকে গিয়েছিল। সেগুলো দিয়ে হয়তো এখনো হাছিল (টাকা) তোলা হচ্ছে।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!