চট্টগ্রামে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণিল আয়োজন

চট্টগ্রাম নগরে বর্ণিল আয়োজনে পালন করা হয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

চট্টগ্রামে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণিল আয়োজন 1

সোমবার (২০ মে) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঐক্য পরিষদের মহানগর শাখা নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বিকালে নগরের চেরাগি মোড় চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি আন্দরকিল্লা হয়ে কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সন্ধ্যায় নগরের লালদীঘি এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা । সভা শেষে কাটা হয় কেক। এরপর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য করা হয় আপ্যায়নের ব্যবস্থা।

বিকেল ৫টায় র‌্যালির উদ্বোধন করেন ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. জিনবোধি ভিক্ষু।

সন্ধ্যায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত।

প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবিএম আবু নোমান।

ঐক্য পরিষদের মহানগরের সহসভাপতি আশুতোষ সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিতাই প্রসাদ ঘোষের সঞ্চালনায় সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঐশীপ্রেম ব্যাপটিস্ট চার্চের পুরোহিত থিয়ফিল এইচ চক্রবর্তী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সুকান্ত দত্ত ও সদস্য সচিব রুবেল পাল, চসিক কাউন্সিলর নীলু নাগ ও রুমকি সেন গুপ্ত, মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিনু দেবী এবং ছাত্র ঐক্য পরিষদের নগর সভাপতি অমিত পালিত অংকুর।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করেছি ঐক্য পরিষদ গঠন করার জন্য নয়। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান থাকলে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গঠনের প্রয়োজন হতো না। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা লড়াই করেছি, এ বাংলাদেশের জন্য নয়। ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর পার্লামেন্টে যে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান রচনা হয়েছিল, সেটার আওতায় যদি রাষ্ট্র পরিচালিত হতো, সেটা যদি বহাল থাকতো, তাহলে ঐক্য পরিষদ গঠনের কোনো প্রয়োজন ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর, দেশ স্বাধীনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় এ গণতান্ত্রিক সংবিধানকে সাম্প্রদায়িক করা হলো। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর ১৯৮৮ সালের ২২ মে পার্লামেন্টে রাষ্ট্রধর্মের বিল উত্থাপন করলেন। আমরা দুদিন আগে অর্থাৎ ২০ মে বিষয়টি জানতে পারি। সেদিন ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তৎকালীন সাংসদ সুধাংশ শেখর হালদারের বাড়িতে গিয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ গঠন করেন। একইদিন চট্টগ্রামেও ঐক্য পরিষদের কমিটি গঠিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘যেদিন পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপিত হল, সেদিন ঐক্য পরিষদের প্রথম সভাপতি মেজর জেনারেল সিআর দত্ত শহীদ মিনারের সমাবেশে বলেছিলেন, রাষ্ট্রধর্ম করার জন্য আমরা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেনি। তারপর তৎকালীন সাংসদ শামসুল হুদার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় ১৫ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী সংগঠন আওয়ামী লীগ। কিন্তু আজ রাষ্ট্র, সমাজ ও প্রশাসনে সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদীদের দখলে চলে গেছে। এদের দখলে চলে যাওয়ার কারণে শুধু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে তা নয়, বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতিকে তারা চ্যালেঞ্জ করছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে, মানবিক বাংলাদেশের কথা বলে তাদেরকে টার্গেটে পরিণত করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ দেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। আমরা আন্দোলন করতে নেমেছি। আন্দোলনে আমরা মানুষের মাথা বিক্রি করতে চাই না। আপনারা অধিকতর ঐক্যবদ্ধ হোন। বৃহত্তর ঐক্যমোর্চা গড়ে তুলুন। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!