চট্টগ্রামে সাংবাদিককে মারধর, বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীসহ ১৫ জন মামলার আসামি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে বাড়ি ফেরার পথে কামরুল ইসলাম নামে এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার করেরহাট বাজারের লক্ষ্মীছড়া ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জোরারগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন আহত সাংবাদিক কামরুল ইসলাম।

কামরুল ইসলাম (৩৩) বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মোহনা টিভি ও দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি মিরসরাই উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে করেরহাট বাজার এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত কামরুল ইসলামের ওপর হামলা করে। এ সময় তার একটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বারইয়ারহাট বিএম হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হামলায় তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

মামলায় বারইয়ারহাট পৌরসভার সহকারী স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও ইউনিয়ন বিএনপির সমন্বয়ক ফজলুল মুরাদ, করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক জামসেদ আলম ফারুক, যুবদল নেতা মো. উদ্দিন, তারেক, মাসুদ, সাইফুল ইসলাম, পারভেসসহ অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক কামরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দৈনিক পত্রিকায় ‘মিরসরাইয়ে গাড়ি আটকিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর মাদক ও চাঁদাবাজ চক্র সংঘবদ্ধ হয়ে রাতের আঁধারে আমার ওপর হামলা চালিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস গেট এলাকায় ফটিকছড়ি ও রামগড় থেকে বালুবাহী পিকআপ ও ট্রাক আটকিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্র ও চালকদের অভিযোগ, বৈধ ঘাট থেকে বালু পরিবহনের স্লিপ দেখানোর পরও কয়েকটি গাড়ি থেকে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয়েছে।

হামলার বিষয়ে করেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ইয়াসিন মিজান বলেন, বিএনপি এই ধরনের হামলাকে সমর্থন করে না, অপরাধী যে হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ২৪ ঘন্টা পর বুঝা যাবে তার শারীরিক অবস্থা। শারীরিক অবস্থা উন্নতি হলে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিজে

ksrm