চট্টগ্রামে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহীদদের স্মরণ

0

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। বাঙালি জাতির জীবনে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ৬৮ বছর আগে মাতৃভাষা বাংলাকে বাঁচাতে ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল বাঙালি সূর্য সন্তানেরা। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারে জীবন উৎসর্গ করেছিল বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানেরা। ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ইউনেসকো। তখন থেকেই দিনটি সারা বিশ্বেই পালিত হয়ে আসছে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পেয়েছিল ভাষার অধিকার, একুশের প্রথম প্রহরে সেই সব শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। থেমে থেমে মিছিল-স্লোগান।

১২টা ১ মিনিটে এসআই হুমায়ুনের নেতৃত্বে সশস্ত্র অভিবাদন জানান সিএমপির একটি চৌকষ দল। এরপর শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি। পরে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও কাউন্সিলররা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেন আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

এছাড়া চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন ও পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এরপর শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, পিবিআই, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, শিল্প পুলিশ, নৌ-পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি

এছাড়াও মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের সদস্যরা। সকাল ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্মরণ চত্বর’ থেকে কালোব্যাজ ধারণ করে প্রভাত ফেরি ও চবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।

এ সময় উপাচার্য চবি জাদুঘরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দেশে দেশে বর্ণমালা ও একুশের সংকলন’ শীর্ষক ৭ দিনব্যাপী (২১-২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলা জমে উঠেছিল আজকের দিনকে ঘিরে। মহান একুশে উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকেই প্রকাশক, লেখক ও পাঠকরা আসতে শুরু করে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম চত্বরের সম্মিলিত একুশে বইমেলায়।

এছাড়াও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রভাত ফেরি করে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রথম প্রহরে আলপনায় রাঙিয়ে তোলেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ ও নগরের বিভিন্ন সড়ক। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী ও সাধারণ মানুষ। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাসমূহ পৃথক কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে পালন করেছে দিনটি।

এএ/এএইচ

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন