আক্রান্ত
২৫৮৮
সুস্থ
২১৭
মৃত্যু
৭৪

চট্টগ্রামে শ্বাসকষ্টের রোগী আইসিইউ পাচ্ছে না, এখনই দরকার ৫০ সিট

0

করোনার উপসর্গ নিয়ে আবদুস সালাম নামে এক ব্যক্তি বুধবার (২০ মে) বিকেলে ভর্তি হয়েছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগা ওই রোগীর জরুরি প্রয়োজন ছিল আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সাপোর্টের। কিন্তু জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউর ১০টি সিটই তখন ভর্তি। সিট খালি না পেয়ে শেষে বাধ্য হয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাকে চিকিৎসা দেন ডাক্তাররা। ২৪ ঘন্টা মৃত্যুর সাথে চললো অসম যুদ্ধ। তাতে হার মেনে বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে আইসোলেশন ওয়ার্ডেই মারা যান তিনি।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে অন্তত তিনজন রোগী থাকেন— যাদের আইসিইউ সাপোর্টের দরকার হয়। কিন্তু সিট খালি না থাকায় তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তাদের হিসেবে রোগীর সংখ্যা অনুপাতে এই মুহূর্তে কম করে হলেও ৫০টি আইসিইউ সিট দরকার ছিল চট্টগ্রামে। অথচ এর বিপরীতে সিট আছে মাত্র ১০টি।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাধারণত আইসিইউতে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন হয়।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার (২১ মে) পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৪৩ জন। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা পজিটিভ শনাক্ত বাড়ার সাথে সাথে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। এই পরিস্থিতিতে জেনারেল হাসপাতালের ওই দশটি সিট ছাড়া এখন পর্যন্ত নতুন একটি সিটও বাড়ানো সম্ভব হয়নি চট্টগ্রামে।

চট্টগ্রামে যেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে এসব কারণে প্রশ্ন উঠেছে করোনাভাইরাসে গুরুতর রোগীদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে। করোনা চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই মুহূর্তে কমপক্ষে ৫০টি আইসিইউ শয্যার প্রয়োজন চট্টগ্রামে।

এখন যে ১০টি শয্যা রয়েছে সেখানে সবগুলো শয্যাতেই রোগী ভর্তি আছে বেশ কিছুদিন ধরে। কোন কোন ক্ষেত্রে আইসিইউ থেকে আইসোলেশনে স্থানান্তর করার মত কোন রোগী থাকলে তাকে বদলে নতুন রোগীদের আইসিইউ সেবা দেওয়া হলেও সবসময় সেটি সম্ভব হয় না।

বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া আবদুস সালামের (৬৫) বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরে।

আবদুস সালামকে আইসিইউ সাপোর্ট কেন দেওয়া গেল না— এই প্রশ্নের জবাবে জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রব চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘ওই রোগী তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। আইসিইউতে শয্যা না থাকায় তাকে সে সুবিধা দেওয়া যায়নি।’

‘আমাদের সবগুলো সিটেই রোগী আছে এখন। আইসিইউ থেকে শিফট করে আইসোলেশনে নেওয়ার মত কেউ না থাকলে তখন আর কাউকে নতুন করে আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া যায় না’— যোগ করেন ডা. আব্দুর রব।

সালাম করোনা পজিটিভ ছিলেন কিনা— এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাসপেক্ট (সন্দেহভাজন) হিসেবে তিনি ভর্তি হয়েছিলেন। করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসলে এই বিষয়ে বলতে পারবো।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

Manarat

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন
ksrm