চট্টগ্রামে শীতকালীন ক্রীড়ার নামে প্রহসন, টাকার নয়ছয়

0

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিবছরই দেশব্যাপী আয়োজন করে জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার। তারই ধারাবাহিকতায় এবারে হচ্ছে প্রতিযোগিতার ৪৯তম আসর। চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করে মাঠে নেমেছে জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। যেখানে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার দলগুলো ছাত্ররা দলগতভাবে ক্রিকেট, ভলিবল, হকি, বাস্কেটবল ও ব্যাডমিন্টন; ছাত্রীরা দলগতভাবে ক্রিকেট, ভলিবল, হকি, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক ও দড়িলাফ এবং ছাত্র ও ছাত্রীরা একক ও দ্বৈতভাবে টেবিল টেনিসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

তবে চট্টগ্রামের বিভাগীয় পর্যায়ের আয়োজন নিয়ে প্রহসনের অভিযোগ উঠেছে অংশ নেয়া দলগুলোর পক্ষ থেকে। অভিযোগ পাওয়ার পর এই প্রতিবেদক সরেজমিনে যান ঘটনার সত্যতা দেখার জন্য। সকাল ৮ টার মধ্যে মাঠে এসে হাজির বিভাগীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ১১টি দল। চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিযোগিতায় মেয়েদের হকিতে কোন দল নেই। পুরুষ হকিতে রয়েছে ৪টি দল। তবে ক্রিকেটে মেয়েদের বিভাগে ৩টি আর ছেলেদের বিভাগে ৪টি দল রয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে সবগুলো প্রতিযোগিতার জন্য ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে মাঠের সংস্কার চলা নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ।

এক মাঠে দু’টি ইভেন্টের ৪টি বিভাগের খেলা! তার উপর সকাল ৮টায় ভেন্যুতে গিয়ে দেখা যায় মাঠে বালি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। এতগুলো ম্যাচ কখন, কিভাবে হবে? তার ওপর চট্টগ্রাম বিভাগের ৭ জেলার ক্রিকেট ও হকির ১১টি দলের খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের বসার কোন ব্যবস্থাও করেনি কর্তৃপক্ষ। দুই দল মাঠে খেললে অবশিষ্ট দলগুলোর খেলোয়াড়-কর্মকর্তারা রোদ মাথায় মাটির ওপর কিভাবে বসে থাকবে— আয়োজক উপ-আঞ্চলিক স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দায়িত্বপ্রাপ্ত নাসিরাবাদ স্কুল ভেন্যুর কর্মকর্তারা সে ব্যাপারে ছিলেন একেবারেই উদাসীন।

ক্রিকেটে মেয়েদের ৩টি দল সকাল ৮টায় মাঠে এসে গেলেও তাদের ম্যাচ দেওয়া হয় বালক বিভাগের দুটি হকি ম্যাচের পর, ১১টায়। অবাক করা কান্ড, উপ-অঞ্চলের খেলায় আয়োজকদের পক্ষ থেকে ম্যাচ বল দেয়ার কথা থাকলেও খেলা শুরুর আগে দলগুলোর কাছ থেকে একটা করে নতুন বল নিয়ে তারপর খেলা শুরু করা হয়। উপ-অঞ্চলের সেমিফাইনাল খেলা নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৬ ওভারের! তিন ঘণ্টা রোদে-মাটিতে বসে থাকার পর মাত্র ৬ ওভারের খেলা ক্লান্ত খেলোয়াড়দের মাঝে কেমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। হকি খেলা অনুষ্ঠিত হয় ১০ মিনিট! নাসিরাবাদ বালিকা বিদ্যালয় মাঠে ভলিবল খেলাও নাকি হয়েছে ১০ পয়েন্টের! হকি খেলতে একটি মেয়ে আঘাত পেয়ে আহত হয়। কিন্তু তার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মাঠে দেখা যায়নি কাউকে। এমনকি মাঠে ছিল না কোন ফাস্ট এইড বক্সও।

‘সরকারি বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থের যোগানে খেলা। ম্যাচ বল কেন দলের কাছ থেকে নেয়া? খেলা আয়োজনের নামে এ প্রহসনের প্রয়োজন কী? দায়সারা আয়োজন করে কী লাভ? কার লাভ?’ এসব প্রশ্ন নিয়ে কথা হয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দেবব্রত দাশের সাথে। তিনি চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, ‌’আমরা (মাউশি) যেসব ভেন্যুতে খেলা হয় সেসব ভেন্যুর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আয়োজনের সব টাকা দিয়ে দিই। স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা স্কুল মাঠের ভেন্যুর দায়িত্বে থাকেন। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন আমি ওদের কাছে জিজ্ঞেস করবো কেন ভেন্যুতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়নি। ম্যাচের বল অবশ্যই আয়োজকদের পক্ষ থেকে দেয়ার কথা।’

এরকম অব্যবস্থাপনা দেখে মেয়েদের ক্রিকেটের একটি দলের কোচ ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘সামান্য অর্থের লোভ সামলাতে পারে না যেসব শিক্ষক তাদের মাধ্যমে সুনাগরিক তৈরি হবে কী করে?’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন