চট্টগ্রামে শিশুরা হঠাৎ নিউমোনিয়া-ব্রংকিওলাইটিসে কাবু, তিনগুণ ভর্তি মেডিকেলেই

ঋতু পরিবর্তনের জেরে শিশুরা ভাইরাস ফিভার থেকে ব্রংকিওলাইটিস ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রথমে জ্বর ও সর্দি থাকে। এরপরই শুরু হচ্ছে শ্বাসকষ্ট। শিশু খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেয়। ঠিক এ সময়ই ভর করছে নিউমোনিয়া। অন্যদিকে নিউমোনিয়ার উপসর্গ শুরুতে না থাকায় বুঝতেও দেরি হয়ে যায়, শিশুর ওপর নিউমোনিয়া ভর করছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুরা শুধু নিউমোনিয়াতেই নয়, আক্রান্ত হচ্ছে ব্রংকিওলাইটিসে।

অন্যদিকে ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগ ব্রংকিওলাইটিস—যা শীতকালে কিংবা এর আগেও ঋতু পরিবর্তনের সময় বেশি হয়। এই রোগে শিশুরা শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির মতো সমস্যায় বেশি ভোগে। অনেকেই একে নিউমোনিয়া ভেবে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করেন। চিকিৎসকরা বলছেন, যার কোনো প্রয়োজন নেই। তারা বলছেন, দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুর ব্রংকিওলাইটিস হয় না। শিশু হাত-পা ছড়িয়ে খেলা করলে ধরে নিতে হবে, সে স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থায় আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে ব্রংকিওলাইটিস ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ২৬০ থেকে ২৭০ জন শিশু রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে। এদের মধ্যে নিউমোনিয়ার রোগী থাকছে ১০ থেকে ১৫ জন। যাদেরকে ওয়ার্ডে ভর্তি দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত আরও ১৫ থেকে ২০ জন শিশুও আসছে। তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য ভর্তি দিলেও বাকিদের নির্দেশিকা অনুযায়ী বাসায় চিকিৎসা নিতে বলছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।

মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ডে সিট রয়েছে ১০২টি। এর বিপরীতে প্রায় তিনগুণ শিশু রোগী ভর্তি আছে ওয়ার্ডে। যার অর্ধেকেরই বেশি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নম্বর পেডিয়াট্রিক ও ৩২ নম্বর নবজাতক ওয়ার্ডের বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা হুমায়দা হাসান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘গড়ে প্রতিদিন ৫০ জন নবজাতক ভর্তি হচ্ছে। এর অর্ধেকই (২৫ থেকে ৩০ জন) নবজাতক লেইট অনসেট সেপসিস (lons) নিউমোনিয়া। চট্টগ্রাম মেডিকেলের ওয়ার্ডে বুধবার (১৬ নভেম্বর) পর্যন্ত মোট ভর্তি হওয়া নবজাতক ১৬০ থেকে ১৮০ জন।’

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. বাসনা মুহুরী গত বুধবারও (১৬ নভেম্বর) ৪ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি দিয়েছেন। ওই শিশুদের নিউমোনিয়ার স্টেজটা খুব খারাপ পর্যায়ে ছিল বলে তিনি জানান।

Yakub Group

চট্টগ্রাম মেডিকেলের শিশু বহির্বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘অপুষ্টির কারণে, ঘরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের অভাবে, শিশুর আশপাশে ধূমপান করলে কিংবা রান্নার সময় শিশু যে ঘরে থাকে, সেখানে রান্নার ধোঁয়া পৌঁছলে শিশুর ব্রংকিওলাইটিস হতে পারে। এজন্য শিশুকে রান্নাঘর থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা উচিত। আর ধূমপায়ী অভিভাবক যেন কোনোভাবেই শিশুর সামনে ধূমপান না করে, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।’

এই রোগের লক্ষণ ও উপসর্গের কথা বলতে গিয়ে ডা. সাইফুল বলেন, ‘দুই বছরের কম বয়সী শিশু, বিশেষ করে শিশুর বয়স এক বছর পর্যন্ত ব্রংকিওলাইটিস হতে পারে। কিন্তু দুই বছরের বেশি হলে এ সমস্যা হয় না। দুই বছর পর্যন্ত যেসব শিশু বারবার ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় ভোগে, ধরে নেওয়া হয় তাদের ব্রংকিওলাইটিস সমস্যা রয়েছে। ব্রংকিওলাইটিস হলে শিশু ঠাণ্ডা-কাশি আর অল্প শ্বাসকষ্টে ভুগলেও সেই অর্থে অসুস্থ মনে হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শিশুর হাসি, কাশি ও বুকে বাঁশির মতো শব্দ আছে কি না তা দেখে বুঝতে হবে, শিশুর নিউমোনিয়া নাকি ব্রংকিওলাইটিস হয়েছে। এতে আক্রান্ত শিশুর সাধারণত তেমন জ্বর থাকে না, হলেও কম তাপমাত্রা থাকে। অন্যদিকে শিশু যদি না হাসে, দেখেই কিছুটা অসুস্থ মনে হয়, তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা যায়, তবে ধরে নেওয়া যেতে পারে সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। নিউমোনিয়া বারবার হয় না, তবে পুষ্টিহীন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই বা কম—এমন শিশুর ঘন ঘন নিউমোনিয়া হতে পারে। আর যেকোনো শিশুর এমনকি পূর্ণবয়স্ক শিশুরও নিউমোনিয়া হতে পারে।’

ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুর ব্রংকিওলাইটিসের জন্য প্রকৃতপক্ষে আলাদা করে তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। আক্রান্ত হওয়ার পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যেই শিশু সুস্থ হয়ে যায়। তবে শিশুকে দেখে অসুস্থ কিংবা শিশুর শরীর কালচে মনে হলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া উচিত। এই রোগে আক্রান্ত শিশুকে সময়মতো অক্সিজেন, নেবুলাইজেশন ইত্যাদি প্রয়োগ করলেই শিশুটি সুস্থ হয়ে যায়। যেহেতু দুই বছরের কম বয়সী শিশুর ব্রংকিওলাইটিস হয়, তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে লক্ষ্য রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ না করা হয়। শিশুর বয়স ছয় মাসের বেশি হলে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও খাওয়াতে হবে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘শিশুকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। উষ্ণ আবহাওয়ায় স্বাভাবিক আলো-বাতাস চলাচল করে—এমন ঘরে রাখতে হবে। শিশুর ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগলে বা সর্দি-কাশি হলে গুরুত্ব সহকারে যত্ন ও চিকিৎসা দিতে হবে। গরমে ঘামছে কি না, শীতে কাঁপছে কি না—এসব দিকে ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে। শিশু হাত-পা ছড়িয়ে খেলা করলে ধরে নিতে হবে, সে স্বাভাবিক ও সুস্থ অবস্থায় আছে। যেসব শিশু বারবার ব্রংকিওলাইটিসে আক্রান্ত হয়, তাদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। এতে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতির আশঙ্কা বেশি থাকে।’

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিউমোনিয়া প্রসঙ্গে বলছেন, ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হয়। এই রোগ ফুসফুসের একদিকে বা উভয় অংশকে আক্রান্ত করতে পারে। নিউমোনিয়ার জীবাণু শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে শ্বাসনালির মাধ্যমে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং বায়ুথলিতে এসে বাসা বাঁধে। ফলে বায়ুথলিগুলোতে শ্লেষ্মা, পুঁজ ও অন্যান্য তরলের সৃষ্টি ও জমা হয়। তখন শ্বাস-প্রশ্বাস কষ্টকর হয়।

নিউমোনিয়ার সাধারণ উপসর্গ হলো কাশি। অনেক ক্ষেত্রে গাঢ় শ্লেষ্মাযুক্ত কফ থাকতে পারে। কফ সবুজ, বাদামি বা রক্তের ছিঁটেযুক্তও হতে পারে।শিশুদের নিউমোনিয়ার কারণগুলো বয়স অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন হয়। অর্থাৎ শ্বাসতন্ত্রের সিনসিটিয়াল ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া, নিউমোকক্কাস, স্টেপটোকক্কাস নিউমোনিয়া এবং হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা পাঁচ বছরের কম বয়সের শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। মাইকোপ্লাজমা নিউমোনিয়া প্রায়ই ৫ থেকে ১৩ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। বেশিরভাগ ভাইরাল নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে অ্যাডিনোভাইরাস, রাইনোভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, শ্বাসযন্ত্রের সিনসিটিয়াল ভাইরাস ও প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে হয়। সাধারণত ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং যারা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় তাদের লক্ষণগুলো দেখা দেয় এবং কম মারাত্মক হয়। শিশুদের মধ্যে লক্ষণগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট নাও হতে পারে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ হলো— জ্বর, দুর্বল ভাব, দ্রুতগতির ঘন ঘন ভারী শ্বাস-প্রশ্বাস, শ্বাসের সঙ্গে শোঁ শোঁ শব্দ, খাওয়ানোতে অসুবিধা হওয়া, ক্লান্তি বা ঝিমুনি ভাব।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক শিশু আইসিইউ বা ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিট ডা. ফাহিম হাসান রেজা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রতিদিন শিশু হাসপাতালে যেসব শিশু রোগী আসছে তার ১০০ জনের মধ্যে ৭০ থেকে ৮০ জনই নিউমোনিয়ার রোগী। এখানে প্রতিদিন আইসিইউ মিলে প্রায় শ’তিনেক শিশু রোগী ভর্তি থাকছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমে শিশুদের জ্বর-সর্দি থাকছে। তারপর চোখ থেকে অনবরত পানি পড়ছে। চোখে ময়লা জমবে। শ্বাসকষ্ট শুরু হবে। বাচ্চা যখন বুকের দুধ খাওয়া ছেড়ে দেবে। তখনই বুঝতে হবে বাচ্চা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। দেরি না করে বাচ্চাকে হাসপাতালে কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।’

ডা. ফাহিম হাসান রেজা আরও বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসার মধ্যে শিরা বা ইন্ট্রাভেনাস অ্যান্টিবায়োটিক এবং শ্বাসযন্ত্রের থেরাপি (শ্বাস-প্রশ্বাসের চিকিৎসা) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে আইসিইউতে চিকিৎসার দরকার হতে পারে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নম্বর পেডিয়াট্রিক ও ৩২ নম্বর নবজাতক ওয়ার্ডের বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা হুমায়দা হাসান বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত নবজাতক শিশুর ঝুঁকি হ্রাঁস করতে শিশুকে বারবার বুকের দুধ পান করাতে হবে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে মায়ের বুকের দুধ। বাচ্চাকে খোলামেলা রাখতে হবে। কোনভাবেই বুকের মধ্যে ঘাম বসানো যাবে না্। সোজা কথায় বাচ্চাকে ঘামতে দেওয়া যাবে না।

ঘরের পরিবেশ শুষ্ক, উষ্ণ গরম এবং ভালো বায়ু চলাচল যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সর্দি, ফ্লু বা অন্যান্য সংক্রমণ রয়েছে এমন ব্যক্তির মাঝ থেকে শিশুকে আলাদা রাখতে হবে। বাচ্চাকে সময়মতো টিকা দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশে নিউমোনিয়ার টিকা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ টিকা দিলে নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করা যায়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নং (পেট্রিয়াডিক) শিশু ও ৩২ নং নবজাতক ওয়ার্ডের বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জগদীশ চন্দ্র দাশ বলেন, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসায় কিছু ক্রাইটেরিয়া মানতে হয়। যদি ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়া হয়, তখন অ্যান্টিবায়োটিকের দরকার হয়। ওষুধগুলো সময়মতো প্রয়োগ করতে হবে, যা শিশুকে দ্রুত সুস্থ হতে এবং সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করতে সহায়তা করবে। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় কমপক্ষে একবার তাপমাত্রা দেখতে হবে। তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের (৩৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) বেশি হলে জ্বর হ্রাসের জন্য প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে।

তিনি বলেন, শিশুর বয়স যদি তিন মাসের কম হয়, যদি একেবারে খাওয়া ছেড়ে দেয় কিংবা শ্বাস নেওয়ার গতি দুই মাসের কম বয়সী শিশুর মিনিটে ৬০ বার, দুই মাস থেকে এক বছরের পর্যন্ত শিশুর প্রতি মিনিটে ৫০ বারের বেশি এবং এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর মিনিটে ৪০ বারের বেশি হলে, শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের পাঁজর দেবে যায় কিংবা শিশুর ঠোঁট ও জিহ্বা নীল হয়ে যায় তখন শিশুকে অবশ্যই জরুরিভাবে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। কারণ এ সবই নিউমোনিয়া বা মারাত্মক রোগের লক্ষণ। সময় নষ্ট না করে এসব লক্ষণ দেখামাত্রই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। ডায়রিয়ার ক্ষেত্রেও তাই। শিশুর যখন ঠোট ও জিহব্বা শুকিয়ে যাবে, মাথার তালু ঢেবে যাবে, সাথে সাথে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বাসনা মুহুরী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, বর্তমান সময়টি যেহেতু গরমের শেষ, শীতের শুরু। তাই ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। আর সেটা থেকে যখন ভাইরাল হচ্ছে, তখন শিশু ব্যাকটেরিয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে এখন নিউমোনিয়া এত খারাপ অবস্থায় যাওয়ার কারণ আমাদের শিশুরা পুষ্টিহীনতার শিকার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাই রোগটি সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া নিউনোমিয়ায় রূপান্তরিত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আজ বুধবার আমি ৪ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি দিয়েছি। কারণ এসব শিশুর নিউমোনিয়ার স্টেজটা খুব খারাপ পর্যায়ে ছিল। বাচ্চা শ্বাস নিতে পারছে না, অক্সিজেন লেভেল কমে যাচ্ছে।’

মায়েদের সতর্ক করে ডা. বাসনা মুহুরী বলেন, ‘বাচ্চার জ্বর হলেই চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে রাখা যাবে না। বাচ্চা যে ঘরে থাকবে সে ঘর ধুলো-বালি-জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। পাতলা জামাকাপড় পরে রাখতে হবে।’

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm