চট্টগ্রামে শক্তি হারাচ্ছে করোনা, হাসপাতালেও রোগীর চাপ কম

আইসিইউর ওপর ধকল কমবে সপ্তাহখানেক পর

চট্টগ্রামে গত দুই সপ্তাহ ধরে করোনা সংক্রমণ কমার পাশাপাশি বদলে গেছে হাসপাতালগুলোর পরিবেশও। ধীরে ধীরে হাসপাতালে রোগী কমার পাশাপাশি কমছে জটিল উপসর্গের রোগীও। তবে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ওয়ার্ড এখনো রোগীতে পূর্ণ। তবে আগামী সপ্তাহ নাগাদ সেই চিত্রও ইতিবাচকভাবে বদলে যাবে এমনটাই আশার কথা শোনাচ্ছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।

আগামীর দিনগুলোতে আর পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বলে মনে করলেও অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে করোনা চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার ওপরেও জোড় দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে শনিবার (২৯ আগস্ট) ১৮০ শয্যার বিপরীতে মোট রোগী ভর্তি আছে ১১৯ জন।

এই যখন সাধারণ ওয়ার্ডের চিত্র, তখন হাসপাতালটির আইসিইউ ওয়ার্ডের ১৭ শয্যার ১৭টিতেই রোগী ভর্তি। তবে ওয়ার্ডে থাকা রোগীদের সকলেই আছেন স্থিতিশীল অবস্থায়। বর্তমানে আইসিইউতে থাকা রোগীরা সুস্থ হয়ে ফিরলে এই হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার চাপ একেবারেই শূন্যের কোঠায় নেমে যাবে— এমনটাই আশাবাদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতালটির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আব্দুর রব চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে যদিও আইসিইউতে ১৭ শয্যার সব শয্যাতেই রোগী ভর্তি আছে। তবে ওয়ার্ডের অবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক। দুয়েকজনের সামান্য সমস্যা আছে। তবে বেশিরভাগই মৃদু উপসর্গের রোগী। এখন সংক্রমণও কমে আসছে। সামনের দিনগুলোতে নতুন করে আর পরিস্থিতি খারাপ হবে— এমন সম্ভাবনাও খুব একটা নাই।

তবে এর মধ্যেই রোববার (২৯ আগস্ট) এই হাসপাতালে উদ্বোধন হবে ৬ শয্যার এইচডিইউ ইউনিট। জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। যাতে পরবর্তীতে আবার যদি অবনতি হয় তাহলে সেটা যেন সামাল দেওয়া যায়।’

আগামী মাসেই এই হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসের সুবিধাসহ আরও বেশ কিছু সুবিধা নিয়ে আরও একটি ওয়ার্ড চালু করা হচ্ছে— এমন কথাও জানালেন ডা. তানজিম।

তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মানুষকে সচেতনতার ক্ষেত্রে পুরোপুরি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে এই দুই চিকিৎসকই বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে পারলে এই উন্নতি আরও তরান্বিত হবে।

এআরটি/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!