চট্টগ্রামে লক্করঝক্কর বগিতে চলছে রেলের যাত্রীসেবা, মেয়াদোত্তীর্ণ বগিতেই যুগ পার

হালনাগাদ তথ্য দিতে লুকোচুরি দায়িত্বরত কর্মচারীর

0

জোড়াতালি দিয়ে চলছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের যাত্রীসেবা। আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনের অধিকাংশ বগি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এসব দিয়েই চলছে যাত্রী পরিবহন। এর মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেনের বগি স্টকে আছে ১৪০টি এবং মেইল ট্রেনের ২১৪টি বগি আছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে। যেসবের অধিকাংশেরই মেয়াদ ফুরিয়েছে বহু আগে।

রোববার (৩ এপ্রিল) রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল পাহাড়তলী কারখানা শাখায় (ওয়ার্কসপ) গেলে ২০২১ সালের ২ অক্টোবরের হালনাগাদের হিসেবে আন্তঃনগর বগি ১০০টি ও ২১৪টি মেইল ট্রেনের বগির স্টক থাকার বিষয় নিশ্চিত করেন ওয়ার্কশপের সহকারী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান। বাকি ৪০টি আন্তঃনগর ট্রেনের বগির বিষয়ে সেন্ট্রাল রেলওয়ে বিল্ডিংয়ের (সিআরবি) প্রধান যান্ত্রিক দপ্তরে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

২০২১ সালের ২ অক্টোবর স্টক হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, একটি বগির মেয়াদ ৩৫ বছর হলেও আন্তঃনগর ট্রেনের ১০০টি বগির মধ্যে ৩১টির বয়স ৩৫ বছর, ৮টির ৩৫ থেকে ৪০ বছর, ৪৭টি বগির বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছর, ৯টি বগির বয়স ৫০ বছরের অধিক বলে জানা গেছে। এসব বগি কোরিয়া, ডেনমার্ক, ভারত, তুরস্ক, জার্মান, পাকিস্তান ও হাঙ্গেরি থেকে আমদানি করা হয়েছিল।

এছাড়া সাধারণ মেইল ট্রেনের ২১৪টি বগির মধ্যে ৮টি বগির বয়স ৩৫ বছর, ২২টি বগির বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছর, ৭১টি বগির বয়স ৪০ থেকে ৫০ বছর, ১১২টি বগির বয়স ৫০-৬০ বছর এবং ১টি বগির বয়স প্রায় ৬৬ বছর বলে জানা গেছে।

এদিকে হালনাগাদ তালিকায় না থাকা ৪০টি আন্তঃনগর বগির বিষয়ে জানতে চাইলে সিআরবির প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী দপ্তরের প্রধান সহকারী (রোলিং স্টক) সুরাইয়া মাহবুবা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে অন্য রুমে খোশগল্পে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

Yakub Group

জানা যায়, পাহাড়তলী কারখানা শাখায় লোকবল সংকট থাকা পরও ত্রুটিযুক্ত বগি মেরামতের পর সেবার উপযোগী করে পাঠানো হয়। দায়িত্বরতদের মতে, প্রতিটি বগি ৩৫ বছর পর্যন্ত সেবাদানের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু আন্তঃনগর ও মেইল ট্রনের অধিকাংশ বগি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগে।

এ বিষয়ে পাহাড়তলী কারখানা শাখার কর্মব্যবস্থাপক রাশেদ লতিফ বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ এসব বগি প্রায় নষ্ট হয়। বগিগুলো ঠিকঠাক করে চালাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন পার্টসের সংযোজনে ব্যয় হচ্ছে বেশি। এসব কাজে বাজেট কম দেওয়ার ফলে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের।’

পাহাড়তলী কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (যান্ত্রিক) তাপস কুমার বলেন, ‘আমদানি না করা পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হবে না। এভাবে জোড়া তালি দিয়েই চলতে হবে।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm