চট্টগ্রামে রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগ

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে এক রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে নারী কর্মীদের ‘যৌন হয়রানি’, দপ্তরে হামলায় ইন্ধন, টিএলআরদের কাছ থেকে টাকা আদায়সহ ঠিকাদারদের কাছে সুদের ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে।

চট্টগ্রামে রেল কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগ 1

অভিযুক্ত ওই রেল কর্মচারীর নাম নজরুল ইসলাম। তিনি পাহাড়তলী রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-(১) দপ্তরের উচ্চমান সহকারী হিসেবে ৪ বছর ধরে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেলের নারী কর্মীদের টার্গেট করেন নজরুল। এরপর বিভিন্ন কৌশলে নারীদের যৌন হয়রানি করেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি এক নারীকে যৌন হয়রানি করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ চট্টগ্রামের প্রতিদিনের হাতে রয়েছে।

এক নারী রেলকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নজরুলের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আরেক সহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে আমাকে বদলি করা হয়।

সানজিদা নামে এক ওয়েম্যান জানান, এলইপি ছুটি আবেদন করলে তা মন্জুর করার নামে হোয়াটসঅ্যাপ কুপ্রস্তাব দেন নজরুল। এমনকি হাত ধরে টানাটানির বিষয়টি প্রধান প্রকৌশলীকে জানান হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নারীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এসবের কিছুই জানেন না বলে জানান।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সাল ২২ জুলাই পাহাড়তলীর বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেনের ওপর ছাত্রদল নেতার হামলার নেপথ্যেও ছিলেন নজরুল ইসলাম।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নজরুলেরে ইন্ধনে টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে মবের শিকার হন বলে জানান এক ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মী।

জানা গেছে, ঠিকাদারদের সুদে টাকা দেন নজরুল। তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া ঠিকাদারদের তিনি বিভিন্ন সুবিধা দেন।

কামাল নামে এক ঠিকাদার বলেন, নজরুলের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে আমি কাজ করেছি।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, নজরুলের ইন্ধনে ২০২৬ সালের ৬ মার্চ দুই ডিইএন কর্মচারীর ওপর মব সৃষ্টি করা হয়। নাজেহাল করা হয় দপ্তরে কর্মরত সাখাওয়াত হোসেনকে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী (১) দপ্তরের উচ্চমান সহকারী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জিডি করার আগ পর্যন্ত জানতাম না, নজরুল জড়িত। পরে তার সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি জেনেছি।

তিনি বলেন, ৬ মার্চ জুয়েলসহ কয়েকজন এসে কাজের বিপরীতে বিল দাবি করেন। বিলের বিষয়টি আমার নয়, আর বিল দেওয়ার মালিক আমি নই। কিন্তু তারা বুঝেও অযথা আমার ওপর চড়াও হয়। কেন, কোন কারণে তারা আমার ওপর আক্রমণ করেছে, তা জানি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. তানভীরুল ইসলাম বলেন, তার (নজরুল) বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ শুনেছি। তবে কর্মচারী কম বলে তেমনভাবে চিন্তা করিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।

ksrm