রেলওয়েতে কোনো মালামাল দরকার হলে নিয়ম অনুযায়ী চাহিদাপত্র তৈরি করে, তা গোপনে দপ্তর প্রধানের কাছে পাঠাতে হয়। এরপর সেখান থেকে ঠিক করা হয় দরপত্রের মাধ্যমে সেই কাজ ঠিকাদারদের দেওয়া হয়। কিন্তু পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক চাহিদাপত্রের সেই গোপন তথ্য ঠিকাদারকের কাছে ‘বিক্রি’ করেন। বিনিময়ে তিনি নেন ২ পার্সেন্ট ‘কমিশন’। এভাবে এক কাজের চাহিদাপত্র তিনি বহু ঠিকাদারকে দিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। আর সেই টাকায় তিনি তৈরি করছেন বিলাসবহুল বাড়ি।
একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে দপ্তরের নির্দেশনা না মানার অভিযোগ উঠেছে। তার এমন কর্মকাণ্ডের জন্য নিউস্টোর ডিপোর কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
অভিযুক্ত এই রেল কর্মকর্তার নাম আল আমিন। তিনি জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সরঞ্জাম শাখা) হিসেবে কর্মরত আছেন।
একাধিক ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় তিনি ঠিকাদারদের ফোন দিয়ে অফিসে ডেকে নেন। তারপর চাহিদাপত্রের গোপন তথ্য দিয়ে কাজের ২ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। এভাবে তিনি এক চাহিদাপত্রের তথ্যি একাধিক ঠিকাদারকে দেন এবং টাকা হাতিয়ে নেন।
৪ জুন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি কাজের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়, যার নম্বর নম্বর-২০৪-১০০৬১। পণ্য ছিল ‘কয়েল স্প্রিং ২৫ নোজ’। কিন্তু সেই তথ্য তিনি এক ঠিকাদারকে আগাম দিয়ে দেন। আর বিনিময়ে তার কাছ থেকে কাজের দুই শতাংশ ঘুষ নেন। কিন্তু তিনি এই তথ্য আরও দুই ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং তাদের কাছ থেকে ঘুষ নেন।
প্রধান জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রাহিদ হোসেন কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং তার বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় পাহাড়তলী জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক আল আমিন কক্ষে গেলে তার দেখা মেলেনি। পরে তাকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করে চুপ করে থাকেন।
বিষয়টি সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ডিসিওএস/পি-১) আরিফুজ্জামানের নজরে এলে তিনি প্রধান জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত জানতে চান। পরে চাহিদাপত্র পেলেও কাজের দরপত্র আপতত স্থগিত রাখেন।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক-রোলিং স্টক ফকির মহিউদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কাণ্ডকীর্তি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজে




