চট্টগ্রামে রেলের ২০ কোটির জায়গায় দখলদারদের দাপট, লিজগ্রহীতার সাইনবোর্ড ভাঙচুর
৬ মাস ধরে বেদখল, ‘ধৈর্য ধরতে’ বলছে রেলওয়ে
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের এসআরবি স্টেশনের প্রায় ২০ কোটি টাকার জমি বেদখল হয়ে আছে। লিজ দেওয়ার পরও ছয় মাসে লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানকে জায়গাটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অবৈধ দখলদারদের কাছে অসহায় রেলওয়ে দুই মাস আগে জমিটিতে সাইনবোর্ড টাঙালেও তা ভেঙে ফেলা হয়।
এর মধ্যে রেলওয়ে নিয়ম না মেনে জমি লিজ দিয়েছে, এমন অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে রেলওয়ের ভাষ্য, নিয়ম মেনেই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর লিজগ্রহীতাকে দিয়েছে ধৈর্য ধরার বার্তা।
জানা গেছে, ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর জমি লিজ দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর আগে থেকে ওই জমিটি টিটু চৌধুরী, সেকান্দর, আরিফ ও মালেকসহ কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে দখলে রাখেন। সেখানে তেলের ড্রাম, জাহাজের মালামাল, তার, লোহাসহ বিভিন্ন জিনিস রাখা হয়েছে।
৮ এপ্রিল (বুধবার) সরেজমিন এসআরবি স্টেশনের সেই জমি গিয়ে দেখা গেছে, বালি দিয়ে ভরাট করা জমিটিতে লোহা, তার, তেলের ড্রামসহ জাহাজের বিভিন্ন মালমাল রয়েছে। এখানে ১০-১৫ জন লোক কাজ করছেন। এ সময় জিয়া নামে এক ব্যক্তি প্রতিবেদককে ‘কেন এসেছেন’ জানতে চান।
আরও জানা গেছে, উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ছয় মাস আগে লিজ পেয়েও দখলে যেতে পারেনি। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে লিজ নেওয়া জমিতে বালি ভরাট করে সাইনবোর্ড টাঙানোর কিছুক্ষণ পর অবৈধ দখলদারেরা তা ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন লিজগ্রহীতারা।
এদিকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে গত ১০ ফেব্রুয়ারি টিটু চৌধুরী, সেকান্দর মিয়াকে একটি চিঠি দেয় বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। কিন্তু এরপর ছয় মাস কেটে গেলেও এখনও অভিযান চালাতে পারেনি তারা।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সেকান্দর মিয়া রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যস্থাপক বরাবর একটি অভিযোগ করেন৷ সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, রেললাইন লাগোয়া জমি বহিরাগতকে বরাদ্দ দেওয়ার বিধান না থাকা, ভূ-বরাদ্দ নীতিমালা ২০২০, বিধি ৩১ এর কোনো শর্ত পূরণ না করা, বিভাগীয় বরাদ্দ কমিটির অসম্পূর্ণ প্রতিবেদন এবং বরাদ্দ দেওয়া জমির তথ্যবিহীন অসম্পূর্ণ নকশার কথা তুলে ধরেন।
এরপর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যস্থাপকের জনসংযোগ ও প্রচার দপ্তর থেকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবাদলিপি প্রচার করেন। সেটিতে নিয়ম মেনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে টিটু চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিএনপির রাজনীতি করি। জমিটিতে আমাদের কিছু নেই। এটা নিয়ে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। শুনেছি ঢাকার কোন এক পার্টি জমিটি লিজ নিয়েছেন। জমিটি নিয়ে অনেক নিউজ হয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে সেকান্দর মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে একাধিকার বার কল দিলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
লিজগ্রহীতা ‘উৎস ট্রেডিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’র স্বত্বাধিকারী এসএম মোসাব্বির বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে জমি লিজ পেয়েছি ছয় মাস হলো। রেলওয়ে আমাদের জমি বুঝিয়ে দিতে পারেনি। তারা আমাদের ধৈর্য ধরতে বলেছে। আমরা ফ্রেব্রুয়ারি মাসে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছিলাম, কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা তা ভেঙে ফেলে। এখন আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছি। তারা অবৈধ দখলদার সরিয়ে আমাদের জমি বুঝিয়ে দিবেন।’
এ বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি আসার আগে জমিটি লিজ দেওয়া হয়েছে। আমি যতটুকু জানি, নিয়ম মেনেই জমিটি লিজ দেওয়া হয়েছে। যারা দখলে আছেন, তারা যদি বৈধ হন তাদের কাগজপত্র থাকবে। যদি থাকে তারা তা রেলওয়েকে দেখাতে পারেন। রেলওয়ে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে থাকে। জমিটি উদ্ধারে শীঘ্রই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
ডিজে




