রমজানের শুরুতেই চট্টগ্রামের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দামে হঠাৎ আগুন লেগেছে। কেজিতে প্রায় ৩৫ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। নির্বাচনের আগে যে মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যেত, সেটিই এখন ২০০ টাকার ঘর ছুঁয়েছে। বাড়তি দামে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির বাচ্চা বেশি দামে কেনা এবং শীতে খামারে মুরগি মৃত্যুর প্রভাব পড়েছে বাজারে। রমজানের আগে এমন মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
বুধবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সারাদিন মুরগির দোকানে ভিড় ছিল। তবে ২০০ টাকা কেজিতে কিনতে না পেরে অনেকেই ফিরে গেছেন। দোকানগুলোতে দেড় কেজির কম ওজনের মুরগি তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে। কেজি ২০০ টাকা হিসেবে দেড় কেজির একটি মুরগির দাম পড়ছে ৩০০ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা, যা অনেকের সামর্থ্যের বাইরে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
নগরীর মিস্ত্রিপাড়ার ইউসুফ পোলট্রি হাউজের মালিক ইউসুফ বলেন, নির্বাচনের পরপরই মুরগির দাম বাড়তে শুরু করেছে। শীতে প্রচুর মুরগি মারা যাওয়ায় বাচ্চা কিনতে হয়েছে বেশি দামে। এর প্রভাব পড়েছে বিক্রয়যোগ্য মুরগির দামে। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে না। রোজার মাঝামাঝিতে দাম আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার নগরের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগির দাম ছিল ৩০০ টাকা। তবে নির্বাচনের পরদিন থেকেই ব্রয়লারের দাম ২০০ টাকা ছুঁয়েছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজি দরে।
খামারিরা জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানভেদে ব্রয়লার মুরগির প্রতিটি বাচ্চা বিক্রি হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকায়। এ বছরের জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগেও এক দিনের বাচ্চার দাম ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। চলতি সপ্তাহে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
বুধবার বিকেলে দেওয়ানহাট চৌমুহনী বাজারে মুরগি কিনতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় গৃহবধূ তামান্নাকে। দোকানে ভিড় থাকায় প্রায় ৪৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে তিনি ২০০ টাকা কেজি দরে ৩ কেজি ওজনের দুটি মুরগি কিনে বাড়ি ফেরেন। তামান্না বলেন, মধ্যবিত্তদের জন্য ব্রয়লারই ভরসা। সেটির দামও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আইএমই




