চট্টগ্রামে যুবলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে পাঞ্জাবি ছিঁড়ল নেতার

কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে নিজেদের শোডাউনের ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে নগর যুবলীগের পদপ্রত্যাশী দুই নেতার অনুসারীরা। এই ঘটনায় দু’গ্রুপের একাধিক কর্মী আহত হন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী এক নেতার পাঞ্জাবিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের একটি হল রুমে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ, মহানগর যুবলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠান শুরুর আগ মুহূর্তে প্রেস ক্লাবের নিচে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যুবলীগের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল ১০টার দিকে বিমানবন্দরে আসেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শেখ নাঈম। তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বিমানবন্দরে ভিড় করেন যুবলীগের পদপ্রত্যাশী নেতারা। প্রায় প্রত্যেক নেতা নিজের কর্মীবাহিনী নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে জমায়েত দেন। এই সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফজলে রাব্বী সুজনের কর্মীদের সঙ্গে আরেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনির কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তবে বিষয়টি তখন শেষ হলে সবাই চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে চলে আসেন।

s alam president – mobile

পরে শেখ নাঈম প্রেস ক্লাবের নিচে আসলে তখন আবারো বিভিন্ন নেতার অনুসারীরা স্লোগান দিতে থাকেন। শেখ নাঈম ওপরে ওঠার পরই সুজন-রনির অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের একাধিক কর্মী আহত হন।

তবে ঘটনার সময় সুজন দু’পক্ষকেই নিবৃত করেছেন বলে দাবি করেন। তবে অপর একটি পক্ষ এই সংঘর্ষে সুজনের ওপরও হামলা হয়েছে বলে জানায়। এমনকি সুজনের গায়ের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলেও জানায়।

সংঘর্ষের বিষয়টি স্বীকার করে ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, ‘যুবলীগের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আমাদের কিছু ছোট ভাইদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে বিষয়টি এত সিরিয়াস কিছু না। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সমস্যার সমাধান করেছি। মূলত প্রেস ক্লাবের জায়গাটি ছোট হওয়ায় সেখানে দু’পক্ষের ছোট ভাইয়েরা তর্কে জড়ায়।’

Yakub Group

বিমানবন্দরে সংঘর্ষের বিষয়টি নিয়ে সুজন বলেন, ‘বিমানবন্দরে এই রকম ঝামেলা হলেও হতে পারে। হয়তো কেউ উপযুক্ত পারফরম্যান্স দেখাতে পারছে না। তাই ঈর্ষান্বিত হয়ে এমন কাজ করে আমার বদনাম করতে পারে।’

এ বিষয়ে জানতে নূরুল আজিম রনিকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে অন্য একটি গণমাধ্যমকে নূরুল আজিম রনি জানান, সংঘর্ষ তার গ্রুপের সঙ্গে হয়নি, হয়েছে চবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াসের কর্মীদের মধ্যে।

রনির মন্তব্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করে ইলিয়াস বলেন, ‘আমি করি ছাত্রলীগ, যুবলীগে আমার কাজ কি? আমি কি যুবলীগ করি? নাকি আমি পদপ্রত্যাশী। কেউ হয়তো আমাকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়াতে চাইছে।’

নিজে উপস্থিত না থাকলেও কর্মী পাঠিয়েছেন কি-না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ইলিয়াস বলেন, ‘আমার কোনো কর্মী নেই। আর ঘটনার ভিডিওটি দেখলেইতো বুঝবেন, এটার সঙ্গে কারা যুক্ত।’

সংঘর্ষ হলেও সে বিষয়ে কিছু জানে না পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ‘সংঘর্ষের কোনো খবর পাইনি। এমনিতে বাকবিতণ্ডার বিষয়ে শুনেছি। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ মোতায়েন আছে।’

বিএস/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!