চট্টগ্রামে যাচাই হবে রাশিয়ার নমুনা তেলের মান, সাতদিন পর ফলাফল

রাশিয়া থেকে আনা ৫০ লিটার নমুনা তেলে চট্টগ্রামে আসতেই শুরু হয়ে গেছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকে বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকার পরও আগে থেকেই কেন কেনা হয়নি রাশিয়ার তেল? তাদের ধারণা, কম দামে রাশিয়ার তেল আনা গেলে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। তবে আলোচনা-সমালোচনা যাই হোক, রাশিয়া থেকে নমুনা তেল দেশে আমদানি করা হবে কিনা, সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও সাতদিন।

জানা গেছে, রাশিয়া থেকে আসা নমুনা চালানের এই তেল ঢাকা ঘুরে পরীক্ষার জন্যে আনা হয়েছে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে। ১০ থেকে ১২ ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ৭ দিন পর জানা যাবে বাংলাদেশে এ তেল ব্যবহার হবে কি-না।

ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ লোকমান বলেন, ‘আমাদের কাছে এসেছে চালানটি। ১০ থেকে ১২ ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে।’

সম্প্রতি রাশিয়া থেকে বিমানে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে জ্বালানি তেলের ৫০ লিটারের নমুনা চালানটি। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জারুবেঝজনেফ জেএসসি তাদের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওই নমুনা পাঠায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে।

বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ওই তেল চট্টগ্রামের পৌঁছার পর বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ৫০ কেজি ওজনের নমুনার চালানটি পরীক্ষার জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে হস্তান্তর করে।

Yakub Group

চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে জানান, ‘স্পেসিফিকেশন অব ফ্লুইড অয়েলের যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। যেমন— স্পেসিফিক গ্র্যাভিটি, ডিস্টেনেশন, ডেনসিটি, ডিসপ্লেশন, ফোর পয়েন্ট, ডিসকোয়ালিটি, সালফার কনটেন্ট, ডিএনসিবি, মার্কেন্টাল, হাইড্রোজেন কনটেন্ট। এক্ষেত্রে কোনো উপাদানের উপস্থিতি বা স্ট্যান্ডার্ড মাত্রার তারতম্য হলে তা আরও নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। এসব পরীক্ষার পর জানা যাবে এ তেল আমাদের ব্যবহার উপযোগী কিনা।’

চট্টগ্রামে অবস্থিত ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড’ হল বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার— যেখানে নিজস্ব পরিশোধন ইউনিটের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল শোধন করে থাকে। এই শোধনাগারে আরও রয়েছে অনুঘটক পুনর্গঠন ইউনিট, অ্যাসফলটিক বিটুমিন প্ল্যান্ট এবং মৃদু হাইড্রোক্রাকিং ইউনিট।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কম দামে জ্বালানি তেল পাওয়ার জন্য দ্বিতীয় কোন উৎস সরকারিভাবে খোঁজ না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাংলাদেশ হলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দেশ। ভোগান্তি না পড়লে এ দেশ কোন শিক্ষা নেয় না। জ্বালানি তেলে দ্বিতীয় কোন উৎস খোঁজ করে রাখলে দেশ আজ সমস্যায় পড়তে হতো না। এখন রাশিয়ার ৫০ লিটার নমুনা তেলেই দেশেই মাতামাতি চলছে। অথচ দেশের মানুষ খেতে পারছে না। সেদিকে সরকারে নজর দেওয়া উচিত।’

এএস/সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm