চট্টগ্রামে ম্যাসাজ পার্লারে ধরা পড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বহিষ্কার

পুলিশের দুর্বল অভিযোগে সকলেই জামিন পেয়ে গেছে

চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদিবাগ এলাকার একটি ম্যাসাজ পার্লার থেকে পুলিশের অভিযানে ধরা পড়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতাকে সংগঠনের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ম্যাসাজ পার্লার থেকে আটক ওই নেতা হলেন ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুল কাইয়ম সৌরভ। এ সময় তার সঙ্গে আরও আটক হন ৯ জন নারী ও ৯ জন পুরুষ।

বুধবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে তাদের আটক করে চকবাজার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তার ১৮ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে চকবাজার থানা পুলিশের দুর্বল অভিযোগের কারণে তাদের সকলেই জামিন পেয়ে যায় বলে আদালতসূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম মহানগর ১৫ নং বাগমনিরাম ওয়ার্ড শাখার সভাপতি শেখ মনছুর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু এবং সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের নির্দেশনায় ১৫ নং বাগমনিরাম ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম সৌরভকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো। পরবর্তীতে দোষী সাব্যস্ত প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।’

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে এ নিয়ে নির্দেশনা এসেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।’

জানা গেছে, মেহেদিবাগের ন্যাশনাল হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি ভবনের প্রথম তলায় মুনলাইট সেলুন নামের ওই ম্যাসাজ পার্লারটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কাজ চলে আসছিল। স্থানীয় নেতাদের অনেকে এখানে নিয়মিত আসা-যাওয়া করায় এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে কিছু বলতে পারেন না। লিটন নামের এক ব্যক্তি এর মালিক হলেও এর কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করেন ফেরদৌস নামের এক ব্যক্তি।

এদিকে ঘটনার পর থেকে চকবাজার থানা পুলিশ লুকোচুরি খেলছে। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চকবাজার থানার এসআই মো. শফি উল্লাহ’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনি থানায় এসে জেনে যান। এভাবে তথ্য দেওয়া যাবে না। আপনি যার কাছ থেকে জেনেছেন তার থেকে বাকি তথ্য জেনে নিন।’

অন্যদিকে চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওয়ালী উদ্দিন আকবরের মুঠোফোন একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!