চট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা, নারীর ১ মাসের জেল

হামলার আড়াল করতে জিডি

চট্টগ্রামে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হয়রানির ঘটনায় বিবি মরিয়ম বেগম নামে এক নারীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৬ মে) চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬–এর ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দীন মাহমুদ এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত বিবি মরিয়ম নগরের আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার বাসিন্দা। তিনি একাধিক মামলার আসামি চটপটি আলাউদ্দিনের স্ত্রী এবং ডাকাত ফয়সালের মা। আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আকবরশাহ থানায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের ছেলে মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন বিবি মরিয়ম। এতে তিনি অভিযোগ করেন, মোক্তার হোসেন তাঁর দুই ছেলে মো. ফয়সাল উদ্দীন ও ফাহাদ উদ্দীনকে মারধর করেছেন এবং পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন।

এই অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে আকবরশাহ থানার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা এম সাকের আহমেদ ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে বিবি মরিয়মের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রমাণিত হয়।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন ও রাষ্ট্রপক্ষের লিখিত যুক্তিতর্কে উঠে আসে, উত্তর কাট্টলী এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেনের মালিকানাধীন একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা করছিল স্থানীয় সন্ত্রাসী আলাউদ্দিন ও তাঁর পরিবার। এ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং পরে আপিল বিভাগের লার্জার বেঞ্চ মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে রায় বহাল রেখে সেখানে নির্বিঘ্নে নির্মাণকাজের অনুমতি দেন।

হামলা ও উল্টো অভিযোগ

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে মোক্তার হোসেন তাঁর জমিতে ইটভর্তি ট্রাক আনলে বিবি মরিয়মের ছেলে ফয়সাল ওরফে গুটি ফয়সাল ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মোক্তার হোসেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এই হামলার ঘটনা আড়াল করতে এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ফাঁসাতে পরদিন থানায় উল্টো মিথ্যা জিডি করেন বিবি মরিয়ম।

সন্ত্রাসী সম্পৃক্ততার তথ্য

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিবি মরিয়মের স্বামী আলাউদ্দিন ওরফে চটপটি আলাউদ্দিন হত্যা মামলাসহ ১৪টির বেশি মামলার আসামি এবং আওয়ামী লীগের একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তাঁর ছেলে ফয়সাল র‌্যাবের হাতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার হন এবং একাধিক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এই চক্রটি বারবার মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অভিযুক্তদের পক্ষে তৎকালীন এমপির লিখিত সুপারিশের কারণে ভুক্তভোগী পরিবার দীর্ঘদিন পুলিশি প্রতিকার পায়নি বলেও অভিযোগ উঠে এসেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবং প্রকৃত ভুক্তভোগী মোক্তার হোসেনকে ফাঁসানোর চেষ্টা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ২১১ ধারায় মামলাটি আমলে নেন। পাঁচজন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।

ksrm