চট্টগ্রামে মদের মহাল নিয়ন্ত্রণের দায় নিতে চায় না পুলিশ ও অধিদপ্তর

0

চট্টগ্রাম নগরীতে মদের মহাল ও বারের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের দায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বলে সাফ জানিয়ে এখানে পুলিশের করার কিছুই নেই বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি)। তারা বলছেন, বেআইনিভাবে কে মদের মহালে গিয়ে মদ পান করছে বা করছে না তা দেখার দায়িত্ব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। অন্যদিকে লোকবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, মহাল ও বারগুলোতে কারা বৈধ আর কারা অবৈধ মদ্যপায়ী তা নির্ধারণ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব।

আগের পর্ব/ চট্টগ্রামে স্বীকৃত মদ্যপায়ী ৫ হাজার, বেনামা তার ১০ গুণ!

নগরীর কোতোয়ালী থানায় এলাকায় দুটি মদের মহাল রয়েছে। এসব নিয়ে নানা সময়ে বির্তকও উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘মদের মহাল নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদনই সবই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। এসব দেখার দায়িত্ব পুলিশের না। পুলিশের আরো হাজারও কাজ আছে। কে মদের মহালে গিয়ে মদ পান করছে কে করছে না তা দেখার দায়িত্ব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। তবে আমার থানা এলাকায় মদসহ মহালের বাইরে রাস্তায় কাউকে পেলে অবশ্যই গ্রেপ্তার করেছি, সামনেও করব।’

নগরীর চারটি অনুমোদনপ্রাপ্ত মদের মহালের মধ্যে আরেকটি মদের মহাল রয়েছে চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথায় এলাকায়। এ প্রসঙ্গে ওসির দায়িত্বে থাকা চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম বলেন, ‘কাপ্তাই রাস্তার মাথার মদের মহালে সরাসরি আমাদের অভিযান চালানোর সুযোগ নেই। এসব দেখার এখতিয়ার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। এরপরও আমরা কাউকে মদসহ রাস্তায় পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

একই কথা বলেছেন ইপিজেড থানার বন্দর মাইলের মাথায় থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত রতন চক্রবর্তীর মদের মহাল নিয়ে ইপিজেড থানার ওসি মীর নুরুল হুদাও।

এসব মদের মহালে অ-পারমিটধারী মদ্যপায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান পরিচালনা না করলেও মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে থাকে র‌্যাব। জানতে চাইলে র‌্যাব -৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (অপারেশন) মাশকুর রহমান বলেন, ‘এসব মদের মহালের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কিন্তু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের হাতে। এরপরও আমরা অভিযোগ পেলে মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে থাকি। এসব মদ্যপায়ীদের বিরুদ্ধে শুধু অভিযান চালিয়ে মদ সেবন বন্ধ করা যাবে না। সব মহল থেকে প্রতিরোধ ও সচেতন করতে হবে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর অঞ্চলের উপ পরিচালক শামীম আহমেদ বলেন, ‘১৯৯০ সালের পর থেকে মদের মহালের অনুমোদন বন্ধ। এসব মহাল ও বারগুলোতে কারা বৈধ আর কারা অবৈধ মদ্যপায়ী তা নির্ধারণ করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব। কেননা লোকবল সংকটের কারণে সেটা কষ্টসাধ্য একটি কাজ আমাদের জন্য। এরপরও আমরা মাঝে মধ্যে অভিযান গিয়ে তা যাচাই বাছাই করি। অনিয়ম বা লাইসেন্সের শর্ত ভাঙলে শর্ত আরোপসহ লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তও দেওয়া হয়। এরপরও অভিযোগ যেহেতু আসছে বিশেষ করে ফিরিঙ্গিবাজারের অনুপ বিশ্বাসের মদের মহালে প্রতিদিন দুই শিফটে আমাদের একজন করে লোক সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবে।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৫০ সালের আইন অনুযায়ী অ্যালকোহলজাতীয় মাদকদ্রব্য কোথায় বেচাকেনা হবে, মদ্যপায়ীরা কোথায় বসে মদ পান করবেন, পরিবহন করতে পারবেন কি না সেসব বিষয় অস্পষ্টতা থাকায় তা স্পষ্ট করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এখন পর্যন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মুসলিম প্রহিবিশন রুল ১৯৫০ ও এক্সাইজ ম্যানুয়াল (ভলিউম-২) ও প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাহী আদেশে অ্যালকোহল বা মদ্যপান ও কেনাবেচার বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয়। এ দেশের মুসলিম নাগরিকদের জন্য মদ অবৈধই থাকছে।

দুই থেকে পাঁচ বা তার চেয়ে বেশি তারকাযুক্ত হোটেল, পর্যটন বা কূটনৈতিক এলাকা, রেস্টুরেন্ট, ক্লাব ও ডিউটি ফ্রি শপে মদ পাওয়া যাবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এক থেকে সাতটি বা প্রয়োজন হলে যৌক্তিকতা দেখিয়ে তার বেশি বারের লাইসেন্স পেতে পারে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।

ksrm