নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ আইন উপেক্ষা করেই চট্টগ্রামে পাহাড় কেটে চলছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। চলছে প্রতিষ্ঠানটির ভবন নির্মাণকাজ। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নগরীর সার্সন রোড এলাকার জয়পাহাড়ে পাহাড় কাটার তথ্য পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে যায় পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিদর্শনকালে পাহাড় কাটার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এসময় বিপিসি কর্তৃপক্ষকে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। এছাড়াও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে বিপিসির বিরুদ্ধে একতরফাভাবে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে বিপিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, জয়পাহাড় এলাকায় তাদের নিজস্ব জমিতে পাঁচতলা স্টিল স্ট্রাকচারের একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় ভাড়া ভবনে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে বলেই নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্মাণের নামে পাহাড় কেটে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পাহাড় কাটার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তাদের মতে, চট্টগ্রাম নগরে এভাবে একের পর এক পাহাড় ধ্বংস করা হলে ভূমিধসের ঝুঁকি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। একইসঙ্গে নগরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
এনএইচ/ডিজে




