চট্টগ্রামে বেপরোয়া বাসের চাপায় বাবা-ছেলে নিহত, গাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার আগুন

দুই ঘণ্টা পর গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বিআরটিসি বাসের চাপায় বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বেপরোয়া বাস

সোমবার (১ জুন) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করলে মহাসড়কে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিহত শাহজাহান উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের করবল্লা টিলা এলাকার মালেক শাহ মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত এজাহার মিয়ার ছেলে। অপরজন তার ছেলে আরিফ।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখি একটি বিআরটিসি বাস প্রথমে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে মোটরসাইকেলে থাকা শাহজাহান ও তার ছেলে আরিফ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও নয়াবাজার আর্মি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বিক্ষুব্ধ জনতার বাধার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রায় ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটির চালককে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। পরে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। গাড়ির অতিরিক্ত গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবকে তারা এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন।

ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। তবে বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগে। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। নিহত বাবা-ছেলের মরদেহ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নাজিরহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ডিজে

ksrm