চট্টগ্রামে বেপরোয়া দুই ‘মারসা’ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিজিবি সদস্যসহ ৪ জনের মৃত্যু, আহত ৩০

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী মারসা পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘঠনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় গাড়িতে অন্তত ৩০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার (৯ মে) সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ঝিনাইদহের গোপালপুরের বাসিন্দা চান আলীর ছেলে বিজিবি সদস্য নাইমুল ইসলাম জিহান (২১), একই এলাকার আনোয়ারের ছেলে নাঈম (২১) এবং পটিয়ার হাবিলার টিপ এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৬০) ও ভোলার বাসিন্দা মনির।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চুনতি ফোর সিজন এলাকায় চট্টগ্রামমুখি যাত্রীবাহী মারসা পরিবহন এবং কক্সবাজারমুখি আরেকটি যাত্রীবাহী মারসা পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় চট্টগ্রামমুখি গাড়িটি একটি দোকানে ঢুকে পড়ে এবং অপরটি একটি গাছসহ মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর দ্বিখণ্ডিত মাথাসহ মরদেহ উদ্ধার করেন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়। পরে লোহাগাড়া উপজেলার ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন জনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার এসআই আবদুস সাত্তার জানান, চট্টগ্রামমুখি একটি মারসা পরিবহনের বাসের সঙ্গে কক্সবাজারমুখি অপর একটি মারসা বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কক্সবাজারগামী মারসা বাসটি সড়কের পূর্ব পাশে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে, অপর চট্টগ্রামগামী বাসটি সড়কের পাশের দোকানে ঢুকে পড়ে। সংঘর্ষে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে গাড়ি আটকা পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দীন চৌধুরী জানান, হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ডিজে

ksrm