চট্টগ্রাম নগরীতে বছরজুড়েই খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত ওয়াসা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ নগরবাসী। এর মধ্যে আাগামী বর্ষা মৌসুমে পাইপলাইন স্থাপন ও রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির জন্য ১ কোটি টাকার প্রাক্কলিক বাজেট পেয়েছে তারা। অথচ চলতি অর্থবছরে এ কাজে ২ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
সম্প্রতি ওয়াসার এক বোর্ড মিটিংয়ে আগের অর্থবছরের বরাদ্দ ও ব্যয়, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে আগামী অর্থবছরে প্রাক্কলিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে চলতি অর্থবছরে (জুলাই ২০২৫-জুন ২০২৬) ২ কেটি ৩১ লাখ বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে প্রাক্কলিক অর্থবছরে (২০২৬-২৭) বাজেট ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওয়াসার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের শেষের ৬ মাসে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
এদিকে ওয়াসা রাস্তা মেরামতের ব্যয় ঠিক সময়ে সিটি কর্পোরেশনকে পরিশোধ করে বলেও জানালেও মেয়র বলেছেন অন্য কথা। তিনি ঠিকাদাররা অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমতি রাস্তা কেটে জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সিটি কর্পোরেশন। ওয়াসা সমন্বয়হীনভাবে রাস্তা কাটছে। এতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ নষ্ট হচ্ছে এবং জনগণের কষ্ট বাড়ছে। কোন সড়ক টেন্ডারের আওতায় আছে বা নতুন করে নির্মাণ হবে, তার তালিকা আমরা দেব। সেই সড়কগুলোতে কোনোভাবেই কাটাকাটি করা যাবে না। অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটলে সিটি কর্পোরেশন তা সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেবে।
সড়কে খনন করলে ওয়াসাকে প্রতিটি সড়ক হস্তান্তরের আগে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দিতে হবে—কোথায়, কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং সংস্কারে আসল খরচ কত লাগবে। অন্যথায় একতরফাভাবে সিটি কর্পোরেশন দায়ভার নেবে না বলে জানান মেয়র।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কাজের কারণে নগরীতে যে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তা আমরাও লক্ষ্য করছি। ওয়াসার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, তারা ৯৩ কিলোমিটার সড়ক কেটেছে এবং এর মধ্যে ৪৮ কিলোমিটার সড়ক খননের পর সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। এজন্য সংস্কারের ব্যয় বাবদ ৮২ কোটি টাকাও দেওয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সংস্কার করছে না। কিন্তু তারা যে পরিমাণ টাকা দিয়েছে, তার ২ থেকে ৩ গুণ খরচ করে সিটি কর্পোরেশন থেকে সড়ক সংস্কারের কাজে ব্যয় করতে হয়। অনেক জায়গায় আমরা নতুন রাস্তা শেষ করার পরই ওয়াসা আবার সেখানে খনন কাজ শুরু করেছে। এতে জনগণের কষ্ট বাড়ছে, আর কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ নষ্ট হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা ওয়াসাকে অবহিত করেই রাস্তা কাটি। রাস্তা মেরামতের ব্যয়ও আমরা যথাসময়ে পরিশোধ করে থাকি। সমন্বয় না করার কথা কেন আসছে? আগামী বাজেটে আমরা বর্ষা মৌসুমের আগেই পাইপলাইন স্থাপন ও রাস্তা কাটার কাজ শুরু করবে ওয়াসা।’
আইএমই/ডিজে




