চট্টগ্রামে বন্যায় তিন উপজেলার ২০ হাজার নলকূপ নষ্ট, টয়লেট ভেঙেছে সাড়ে ৫ হাজার

চট্টগ্রামে বন্যায় চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ৩৯টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে ৮০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নষ্ট হয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গভীর নলকূপ ও টয়লেট। নষ্ট হওয়া নলকূপের সংখ্যা ১৯ হাজার ৯৬১টি, আর টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ৬৯৪টি। এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অধিদপ্তর মোবাইল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাবার পানি, হাইজিন কিট, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্যানিটারি ন্যাপকিন, জেরিকেন, সাবান সরবরাহ করছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের দক্ষিন মরফলা গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবারের কাছে এসব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। এর আগে চন্দনাইশ ও বাঁশখালীতে এসব স্বাস্থ্যসামগ্রী সরবরাহ করে তারা।

চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৪ জুলাই ক্ষয়ক্ষতির বিবরণসহ তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাশ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। নষ্ট হয়েছে গভীর নলকূপ ও টয়লেট। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলায় গিয়ে আমরা স্যানিটারি ন্যাপকিন, জেরিকেন, সাবান, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবেলেট, হাইজিন কিট, মোবাইল ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করেছি।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই তিন উপজেলায় প্লাবিত হয়েছে ৩৯টি ইউনিয়ন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ৮০ লাখ। সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপের সংখ্যা ১৯ হাজার ৯৬১টি, টয়লেট রয়েছে ৫ হাজার ৬৯৪টি।

এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলার প্লাবিত ইউনিয়নের সংখ্যা ১৭টি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখ মানুষ। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপের সংখ্যা ৫ হাজার ১৫টি, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ১১২টি এবং টয়লেট নষ্ট হয়েছে ২ হাজার ১৫৬টি।

বাঁশখালী উপেজেলায় প্লাবিত ইউনিয়নের সংখ্যা ১৪টি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখ। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপের সংখ্যা ৪ হাজার ৫২৩টি, আংশিক ক্ষতি ৩ হাজার ৫০৩টি। টয়লেট ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৪৭২টি।

চন্দনাইশে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২০ লাখ। সম্পূর্ন ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপের সংখ্যা ২ হাজার ৫৭২টি, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ২৩৬টি। ক্ষতিগ্রস্ত টয়লেটের সংখ্যা ১ হাজার ৬৬টি।

আইএমই/ডিজে

ksrm