চট্টগ্রামে ফখরুলের গাড়িতে হামলা, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ২৬ নেতা অভিযুক্ত

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী বাজারে নয় বছর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা মামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ২৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। প্রতিবেদনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে তাগাদা দেন আদালত।

মামলার বাদি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দ্রুত বিচার আইনে করা মামলায় ২৬ জন আসামির সবাইকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পরে শুনানিতে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করবেন কি-না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রতিবেদন গ্রহণ করা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ফলে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন।

যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন—রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামসুজ্জোহা সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল গুপ্ত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন—সরওয়ার, নাজিমুদ্দিন, রাসেল, মহসীন, জাহেদ, আলমগীর, নঈমুল ইসলাম, পাভেল বড়ুয়া, ইকবাল হোসেন, নাহিম, এনামুল হক, সাইফুল, মাহাবুব, আনোয়ার, নেসার উল্লাহ, বেলাল, মুজাহিদ, বাপ্পা ও হারুন।

২০১৭ সালের ১৮ জুন রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে ১১৫ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া হয়ে কাপ্তাই সড়ক দিয়ে রাঙামাটির উদ্দেশে রওনা হলে ইছাখালী এলাকায় তাদের গাড়িবহরে রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।

হামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রতিনিধিদলটি রাঙামাটি না গিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ফিরে আসে।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলার জন্য সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে দায়ী করেন। তবে তিনি ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে একই বছরের ২১ জুন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এনামুল হক বাদি হয়ে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ২৬ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ প্রথম দফায় আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দেয়, তাতে বলা হয়—ঘটনাটি সত্য হলেও জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদি রিভিশন মামলা করলে আদালত মামলাটির পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

আইএমই/এএইচ

ksrm