চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে কাজ করবে ইউনিলিভার, চসিক ও ইপসা

৩২ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ

চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন করে অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)। ২০২২ সালের জুন থেকে চলমান এ উদ্যোগের আওতায় ইতিমধ্যে ৩২ হাজার টনের বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার ৭০ শতাংশই ছিল ফ্লেক্সিবল প্লাস্টিক।

সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ উপলক্ষে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (এস), বিএন, ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।

২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভ্যালু চেইন উন্নয়নে কাজ করছে এ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্ক্র্যাপ ক্রেতা বা ভাঙারিওয়ালা এবং রিসাইক্লারদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রণোদনাভিত্তিক মডেলের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

উদ্যোগটির আওতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং মৌলিক ব্যবসায়িক দক্ষতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সুবিধাও দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিন হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং ২২০ জন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে সরবরাহ করা হয়েছে নিরাপত্তা সরঞ্জাম।

২০২৫ সালে এ উদ্যোগের আওতায় চালু করা হয় গ্রুপ লাইফ ইনস্যুরেন্স সুবিধা। এর মাধ্যমে এক হাজার ৮২৭ জন অংশগ্রহণকারী অক্ষমতা বা দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষার আওতায় এসেছেন। এছাড়া কমিউনিটি সম্পৃক্ততা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার এবং বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

উদ্যোগের আওতায় অংশগ্রহণকারী স্ক্র্যাপ ক্রেতাদের অর্ধেক এখন ট্রেড লাইসেন্সধারী এবং সব অংশগ্রহণকারীর সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সিটি করপোরেশন, বেসরকারি খাত এবং সিভিল সোসাইটির সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায়ে সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ার বৃহত্তর লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করার জন্য ইউনিলিভার বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য সমস্যা মোকাবিলায় পুরো ভ্যালু চেইনজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস এবং সার্কুলারিটি ত্বরান্বিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইউনিলিভার গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মডেল নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও ইপসা’র সঙ্গে চলমান অংশীদারিত্ব বর্জ্যকর্মীদের সহায়তা, সংগ্রহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আরও টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, এ উদ্যোগ অনানুষ্ঠানিক খাতের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও সংগঠিত ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসছে। এর ফলে তাঁদের আয়ের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপত্তা ও স্বীকৃতির সুযোগও বাড়ছে। তিনি বলেন, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তব সহায়তার সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্যোগটি আরও কার্যকর ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য দুইজন বর্জ্য সংগ্রাহক এবং দুইজন স্ক্র্যাপ ক্রেতাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

নবায়নকৃত এ অংশীদারিত্বের আওতায় প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে আচরণগত পরিবর্তনেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে চট্টগ্রামে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ksrm