চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে চাঙ্গা আওয়ামী রাজনীতি, বড় জমায়েতে চোখ নেতাকর্মীদের

এক দশক পর চট্টগ্রাম নগরীতে সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন দলীয় সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এই ঘোষণা আসার পর পরই পাল্টে গেছে নগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির দৃশ্যপট। একই সঙ্গে সহযোগী অঙ্গ সংগঠনগুলোও বেশ চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে। কারা বেশি জমায়েত দেবে, এখন থেকেই চলছে সেই প্রতিযোগিতা। আগামী ৪ ডিসেম্বরের এই সমাবেশকে বৃহৎ রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত করতে চায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলো।

সমাবেশ বড় করতে ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীরাও এখন সরব হয়ে ওঠেছেন। নিয়মিত মিটিং হচ্ছে বিভিন্ন ওয়ার্ড-থানা কমিটিতে। এর মধ্যে কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে কয়েকটি ওয়ার্ড-থানায়। এছাড়া সমাবেশ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণের নেতাদের নিয়ে কর্মী সম্মেলনও করেছেন।

আগামী ৪ ডিসেম্বর নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিতব্য নগর আওয়ামী লীগের এই সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশের আয়োজক নগর আওয়ামী লীগ হলেও তাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সকল সংগঠন।

১২ হাজার নেতাকর্মীর শোডাউন দেবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ

দীর্ঘদিন নেতৃত্বশূন্য থাকা নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ গত ৯ মার্চ ২১ সদস্যের আংশিক কমিটি পেয়েছে। সেই আংশিক কমিটির নেতারা সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়নের কর্মসূচি নিয়েছে। প্রতিদিনই দু’চারটি করে ওয়ার্ডে মিটিং করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমাবেশ সফল করার দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সমাবেশে এই নতুন কমিটির পক্ষ থেকেই অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার বা তারও বেশি কর্মীর বিশাল শোডাউন দিয়ে সমাবেশস্থলে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু।

সমাবেশের প্রস্তুতির বিষয়ে দেবাশীষ নাথ দেবু বলেন, ‘আমরা সাংগঠনিক ৪৪টি ওয়ার্ডেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিং করছি। ১২ নভেম্বর মিটিং হয়েছে কাট্টলী, আকবরশাহসহ আশপাশের এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়ে। এভাবে প্রতিদিন আমরা ছোট ছোট মিটিং করে ৪ ডিসেম্বরের ব্যাপারে কর্মীদের জানিয়ে দিচ্ছি। সর্বশেষ আমরা নগরীর সব ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি বড় প্রতিনিধি সম্মেলন করব। যাতে আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন।’

Yakub Group

তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু নতুন কমিটি পেয়েছি তাই সব গুছিয়ে নিতে একটু কষ্ট হচ্ছে। তারপরও অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার কর্মী নিয়ে একসঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেব, তবে সংখ্যাটা আরো বাড়তেও পারে।’

কর্মীদের নিয়ে আলাদা আলাদা যাবেন নগর যুবলীগ নেতারা

দীর্ঘদিনের কমিটির জট ভেঙে গত ৩০ মে সম্মেলনের মাধ্যমে নগর যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। বর্তমানে নগর যুবলীগের কমিটির ঘোষণা কবে হচ্ছে, তা নিয়ে চলছে নানান সমীকরণ। কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার আশা দেখালেও আলো ফুটছে না। যুবলীগের নেতারা যখন কমিটির পদ পেতে লবিংয়ে ব্যস্ত ঠিক তখনই হচ্ছে আওয়ামী লীগের সমাবেশ। এর মধ্যে কমিটি হোক বা না হোক, ৪ ডিসেম্বরের সমাবেশ সফল করতে ব্যক্তিগতভাবে হলেও অনুষ্ঠানে যাবেন পদপ্রত্যাশী নেতারা।

যুবলীগের পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগর যুবলীগের ব্যানারে সবাই একসঙ্গে সমাবেশে যাওয়ার একটি প্রস্তাব উঠলেও অনেকের মতানৈক্যের জন্য তা সফল হচ্ছে না। এমনকি ১১ নভেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে একসঙ্গে ঢাকায় যেতে চাইলেও দু’চারজনের অমতের জন্য সেই কাজটিও করতে পারেনি নগর যুবলীগ নেতারা।

এই বিষয়ে নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘কমিটি হোক বা না হোক, একসঙ্গে যায় আর এককভাবে, সেটা বড় কথা না। বড় কথা হচ্ছে, ৪ ডিসেম্বর আমাদের নেত্রীর সমাবেশ, সেই সমাবেশকে সফল করতে যা যা করতে হবে, সবটাই করব।’

কমিটি ছাড়া এক ব্যানারে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা পদ ছাড়াও ’৯০ এর আন্দোলন থেকে শুরু করে সবকটি আন্দোলন সফল করেছিলাম। তবে আমাদের বেশিরভাগ পদপ্রার্থীর ইচ্ছে ছিল একসঙ্গে অনুষ্ঠানে যাওয়ার। কিন্তু দু’চারজনের অমতের জন্য এটি আর হচ্ছে না। তাই আপাতত যদি একসঙ্গে যাওয়ার কোনো দিকনির্দেশনা না আসে, তবে আমরা ব্যক্তিগতভাবেই মিছিলে যাব।’

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহেই যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ঘুরে গেছেন চট্টগ্রাম। করেছেন উত্তর, দক্ষিণ ও নগরের যুবলীগের নেতাদের নিয়ে কর্মী সমাবেশও। সেখানেও সমাবেশ সফল করতে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে যান কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে সেই সম্মেলনেও সংঘর্ষে জড়িয়েছেন নগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী দুই নেতা।

বেশি লোক সমাগম করতে চায় ছাত্রলীগ

৪ ডিসেম্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে অন্যান্য সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম চোখে পড়লেও নগর ছাত্রলীগ তার উল্টো। সমাবেশ উপলক্ষে তারা এখন কোনও সভা করতে না পারলেও সব থেকে বেশি গণজমায়েতের আশা করছে সংগঠনটি।

এই বিষয়ে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, ‘আমরা এখনও কোনো মিটিং না করলেও ওয়ার্ড পর্যায়ে নেতাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা ইতোমধ্যে দিয়েছি। চেষ্টা করছি ১৫ নভেম্বর একটি কর্মী সম্মেলন করতে। তবে যা করি না কেন, সমাবেশে সব থেকে বেশি লোক সমাগম নগর ছাত্রলীগই করবে।’

বিভিন্ন ইস্যুতে নগর ছাত্রলীগের ফাটলের কারণে ঐক্যবদ্ধভাবে মিছিল করতে পারবেন কি-না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আসলে সবদিক থেকে মানুষ আসবে, প্রচুর মানুষ হবে। একসঙ্গে যাওয়াটা মনে হয় সম্ভব নাও হতে পারে। এছাড়া আমাদের ছাত্রলীগের নেতারা বিভিন্ন এলাকা থেকে আসবে, ট্রান্সপোর্টেরও একটা ব্যাপার আছে। তাই সবাই একসঙ্গে যেতে না পারলেও যে যার মত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠানে যাবে।’

দস্তগীর বলেন, ‘তবে আমরা একটা জায়গায় জমায়েত দেব। যাদের ওই স্থানটি সুবিধাজনক হবে, তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দেবে। আর যাদের জন্য ওই স্থানে আসা সুবিধাজনক নয়, তারা সমাবেশস্থলে চলে যাবে। এছাড়া সম্মেলনের আগের দিন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাউন্সিল। অন্যবারের মতো চট্টগ্রাম থেকে বেশি লোক নিয়ে আমরা কাউন্সিলে যাব না। শুধুমাত্র আমরা যারা ডেলিগেট আছি, তারাই ঢাকায় যাব, আবার নেত্রীর বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম চলে আসব। কর্মী নিয়ে ঢাকায় গেলে আবার পরেরদিন সমাবেশে যোগ দেওয়াটা কষ্টকর হয়ে যাবে।’

কী করছে আওয়ামী লীগ?

সমাবেশ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত নগর আওয়ামী লীগ। চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যা রয়েছে নগর আওয়ামী লীগে। যা একাধিক মিটিং ও ওয়ার্ডের সম্মেলনে স্পষ্ট হয়েছে। তারপরও যত দ্বিধা থাকুক না কেন, নেত্রীর সমাবেশের আগে সব ধরনের অনৈক্য কাটিয়ে নগরীর সব নেতারা একবিন্দুতে আসবেন বলে আশাবাদী আওয়ামী লীগের নেতারা।

সম্মেলনের আগে বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও কমিটি দিতে চলেছে নগর আওয়ামী লীগ। ফলে সম্মেলনের দিন নতুন কমিটির নেতারা আনন্দ-উদ্দীপনার নিয়ে সমাবেশে আসতে পারবেন।

এই বিষয়ে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘এখন শুধু লক্ষ্য একটাই, সমাবেশকে সফল করা। এটার জন্য আমরা যে ওয়ার্ডগুলোতে কমিটি দেওয়া সহজ হবে, সেই কমিটিগুলো ঘোষণা করবো।’

নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নঈম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘সমাবেশের জন্য আমরা বিভিন্ন ওয়ার্ড-থানার নেতাদের জানিয়ে দিচ্ছি এবং কমিটিও দেবো সামনে। এই সমাবেশকে সফল করার সব ধরনের উদ্যোগ নগর আওয়ামী লীগ নিচ্ছে।’

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm