চট্টগ্রামে পেঁয়াজের বাজার আবার অস্থির

আতঙ্কের সুযোগ নিচ্ছে চেনা সিন্ডিকেট

0

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কেনার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। চালের সাথে সাথে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে আবার। করোনার অজুহাতে খুচরা ব্যবসায়ী থেকে আতড়দার সবাই সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের বাজার আবারও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ বাজার মনিটরিং কমিটির গাফেলতিতে করোনা আতঙ্ককে কাজে লাগাচ্ছে এই সিন্ডিকেট। বাজার মনিটরিং না করে প্রশাসনও নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।

নগরের খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে থাকলেও করোনার আতঙ্কে এখন সেটা আবার অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েকদিনে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ টাকা পাইকারি মূল্য বেড়ে গেছে।

ভারত থেকে পেয়াজ রপ্তানি বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের বাজার দীর্ঘদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল। গত মাস থেকে সেই পেঁয়াজের দাম মোটামুটি কমে আসছিল। করোনার প্রভাবে চলতি সপ্তাহে আবারও বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের বাজার। অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে আমদানি বন্ধ থাকার কারণে আদা-রসুনের দামেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা। পাকিস্তান পেঁয়াজও ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিসরের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, হল্যান্ডের পেয়াজ ৫ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেই একই পেয়াজ কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকায় খুচরা দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পেয়াজের সাথে সাথে রসুন ও আদার দামও হঠাৎ বেড়ে গেছে। চায়না রসুন গত দুই দিনে ৫০ টাকা বেড়ে ১৭০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় রসুনও কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি দামে চায়না আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা। এগুলো খুচরা বাজারে ক্রেতারা কিনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশিতে।

নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার ও চৌমুহনী চউক কর্ণফুলী মার্কেটে বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, কয়েক মাস পরে পেঁয়াজের বাজার কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। এখন করোনা ভাইরাসের কারণে আবারও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। করোনার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ অতি দ্রুত যেন বাজার মনিটরিং করেন।

খাতুনগঞ্জের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, করোনা ভাইরাসের আতংকে নগরীতে যেন ঈদের আমেজ চলছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা আর যে কোনো মুহূর্তে লকডাউন হতে পারে— এই ভয়ে মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কেনার কারণে চাল আর পেঁয়াজের বাজার কিছুটা অস্থিতিশীল। পেয়াজের দাম পাইকারী বাজারে কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ টাকা। খুচরা বাজারে বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। এই দাম দিন দিন আরো বাড়বে।

খাতুনগঞ্জে কাঁচাপণ্যের বিশেষায়িত মার্কেট (কাঁচা মসলাপণ্য) হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ মিয়া চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে নগরীর মানুষের মনের মধ্যে আতংক ঢুকে গেছে। বর্ডার বন্ধ হয়ে যাবে, মাল ঢুকবে না, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাবে— এমন আতংকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কেনার কারণে বাজারে বাড়তি চাপ পড়ছে, যার জন্য দামটা একটু বেশি।

তিনি আরও বলেন, ইন্ডিয়ার বর্ডার দিয়ে কালকে যে মাল ঢুকেছে তা অনেকেই বিক্রি না করে গুদামে মজুদ করে রেখেছে বর্ডার বন্ধ হয়ে যাবে আর মাল ঢুকবে না এই ভয়ে। এ কারণেও পেঁয়াজের সাথে আদা ও রসুনের দাম পাইকারিতে কিছুটা বেড়েছে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

আরও পড়ুন