চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের দুই নম্বর গেট এলাকায় এক যুবককে গান গেয়ে ও নেচে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। দেড় বছর আগে ছিনতাইকারী সন্দেহে ওই যুবককে ‘মব’ তৈরি করে পেটানো হয়।
গত ৮ এপ্রিল পাঁচলাইশ থানা পুলিশ চার্জশিট চট্টগ্রাম আদালতে জমা দেয়।
নিহত ওই যুবকের নাম শাহাদাত হোসেন। নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। তবে নগরীর কোতোয়ালী থানার বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে বসবাস করতেন এবং ফলমণ্ডির একটি দোকানে কাজ করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট দুপুরে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহাদাত। সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার কথা হয় তার। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি দেখে তার বাবা লাশ শনাক্ত করেন।
লাশ উদ্ধারের প্রায় এক মাস পর ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। এতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ গান গাইছে ও বাঁশি বাজাচ্ছে, আর তাদের মাঝখানে হাত বাঁধা এক যুবককে মারধর করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার চারদিনের মধ্যে পুলিশ ফরহাদ, আনিসুর ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে।
পরে ওই কিশোর আদালতে জবানবন্দিতে জানায়, ছিনতাইকারী সন্দেহে ১৫-২০ জন মিলে শাহাদাতকে মারধর করে এবং সেও এতে অংশ নেয়। অভিযোগপত্রে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।
তাদের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী খিচুড়ি বিক্রেতা মীর নাজমুল হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি কম থাকায় শিক্ষার্থীরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছিল। ১৩ আগস্ট রাত ১১টার দিকে দুই নম্বর গেট এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালের সঙ্গে শাহাদাতকে বেঁধে মারধর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার এসআই এসএম সফিউল আজম মুন্সী জানান, ভিডিও ও জবানবন্দির ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছিনতাইকারী সন্দেহে তাকে নেচে-গেয়ে মারধর করা হয় এবং পরে লাশ অন্যত্র ফেলে রাখা হয়। সোহান ও আসিফ উল মেজবাহ নামে আরও দুজনকে শনাক্ত করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের আসামি করা যায়নি। ঠিকানা পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। মামলায় এক কিশোরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন—ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী (৪৩), আনিসুর রহমান (২০), মেহেদী হাসান (২৭) ও মো. মাজেদ (২২)। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
টিএ/ডিজে




