চট্টগ্রামে তরুণী খুন, লুঙ্গি গামছা পড়েই ২ আসামি গ্রেপ্তার করল পুলিশ

চট্টগ্রামের হালিশহরের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করলো হালিশহর থানা পুলিশ।

গত (১৬ জানুয়ারি) সোমবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো জামিন (২৪) ও মো মোস্তফা (২২)। এ সময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি ও জব্দ করা হয়।

এর আগে হত্যাকান্ডের পর নিহরের বাবা মো. আব্দুল মালেক বাদি হয়ে হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার আমাদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ আসামীরা ছিল আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়ার বাইরে। তারা ফেসবুক কিংবা অন্য কোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতো না। তাই সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিশোরগঞ্জের নিকলী এলাকার মানুষ সাধারনত কৃষি নির্ভর। তাই তাদের চলাফেরা ও অত্যান্ত স্বাভাবিক। ওই এলাকার পোশাক সাধারনত লুঙ্গি গামছা। তাই আমাদের টিম ও লুঙ্গি গামছা পড়েই ওই এলাকায় অবস্থান নেয়।’

Yakub Group

এদিকে স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যর ভিত্তিতে জানা যায় আসামী জামিন একটি সেলুন দোকানে চুল কাটছে। পরে ওই তথ্যর ভিত্তিতে ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্যর ভিত্তিতে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেন, ‘মূলত এই হত্যাকাণ্ড পারিবারিক কলহকেই কেন্দ্র করে।’

এদিকে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির উদ্দিন বলেন, ‘এই হত্যাকান্ড রহস্য উন্মোচন করা ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়ে বড় বাঁধা ছিল তথ্য প্রযুক্তি। আসামি গ্রেপ্তারে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি ও প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই এখনো পুরোপুরি ঘটনা সম্পর্কে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ সম্পর্কে আরও ধারণা পরিষ্কার হবে।’

মামলার তদন্দকারী কর্মকর্তা এসআই সুফল কুমার দাশ বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা মামলা করলে সাথে সাথে স্থানীয় ভাবে খোঁজ নিয়ে আসামি গ্রামের বাড়ি নিকলী এলাকায় গিয়ে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নগরীর হালিশহর থানাধীন এ-ব্লকের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ রোডের ১১ নম্বর বাসার ভিতরে স্বামী হাতে স্ত্রীকে খুনের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ১ বছর পূর্বে নিহত রাবেয়া আক্তার (২৭) তার প্রথম সংসারের দুই কন্যা সন্তান সহ আসামী মো. জামিন (২৪) বিয়ে করে। সংসার জীবনে নিহত নারীর সাথে জামিনের বনিবনা না হওয়ায় তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হতো। এই বিরোধ সমাধানের জন্য নিহতের বাবা আসামীর নিকট আত্মীয় স্বজনের সাথে বৈঠক করেন।

নিহত রাবেয়া আক্তার হালিশহর থানাধীন বি ব্লকের হান্নানের মালিকানাধীন মিডওয়ে অ্যাপারেলস নামে ছোট গার্মেন্টেসে চাকুরী করতো। ভিকটিমকে তার স্বামী আসামী জামিন (২৪) প্রতিনিয়ত সন্দেহ করায় ভিকটিম গত ২ মাস পূর্বে চাকুরি ছেড়ে দেয়।

নিহতের সংসারের স্বচ্চলতার জন্য তার বাবার চায়ের দোকানের পাশে রাস্তায় পিঠা বিক্রি করতো। যার তার স্বামী পছন্দ করতো না।

ঘটনার কয়েকদিন আগে এনজিও হতে লোন করার জন্য একটি ফরমে স্বাক্ষর দিতে বললে ভিকটিম অস্বীকৃতি জানালে আসামি মো. জামিন রাবেয়ার সাথে তর্কে জড়ায়।

এই কলহকে কেন্দ্র করে ১৪ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে আসামি মো. জামিন কাজ শেষে হালিশহর থানাধীন পাবলিক স্কুলের মোড়ে আসামী মো. জামিন ও অপর আসামী মোস্তফা (২২) মিলে রাবেয়াকে ছুরি মেরে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামিন একটি ছুরি নিয়ে তার বাসায় প্রবেশ করে এবং অপর আসামি মোস্তফা পিছন পিছন গিয়ে জামিনের কক্ষে পাশের কক্ষে প্রবেশ করে।

এ সময় জামিন ঘরে ডুকে তার মেয়ে মিম আক্তার জান্নাতকে ঘরের ভিতরে দেখতে পেয়ে তাকে বাইরে যেতে বলে। মিম আক্তার জান্নাত বাসা হতে বের হয়ে তার নানার পানের দোকানে গিয়ে জানায়, তার বাবা একটি ছুরি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছে এবং তাকে বাইরে যেতে বলেছে।

এর মধ্যেই মিম আক্তার জান্নাত বাসা থেকে বের হলে আসামির ভায়রা মোস্তফা পাশের কক্ষ থেকে আসামির শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে। রাবেয়া খাতুন নাস্তার জন্য রান্না ঘরে প্রবেশ করলে আসামির ভায়রা ভাই রাবেয়াকে ঝাপটে ধরে ফেলে এবং জামিন ধারালো ছুরি দিয়ে ভিকটিম রাবেয়া খাতুনের গলার সামনের অংশে আঘাত করে।

পরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর রাবেয়া খাতুন চিৎকার করলে আসামি মোস্তফা ও জামিনের হাত থেকে চাকু কেড়ে নিয়ে ভিকটিমের গলায় কয়েকবার আঘাত করে। তখন রাবেয়ায়া দৌঁড়ে তার বাবার দোকানের সামনে রাস্তায় পড়ে যায় এবং আসামি মো. জামিন তার ভায়রা ভাই মোস্তফাসহ (২২) দৌঁড়ে দেয়াল টপকিয়ে খালপাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। আসামি মো. জামিন খালপাড় দিয়া পালানোর সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তার হাতে থাকা ছবিটি খালে ছুড়ে মারে।

পরে হালিশহর থানার ফইল্যাতলী বাজারের হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারে রাবেয়া খাতুনকে নিহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

রানা/এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm