চট্টগ্রামে ডেঙ্গু কেড়ে নিলো আরও ৩ প্রাণ, ১৫ দিন আগের তথ্য দিলো সিএসসিআর

১৫ দিন আগের ডেঙ্গুতে মৃতের তথ্য দিয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর (সেন্টার ফর স্পেশালাইজড কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ)। গত ২৯ জুলাইয়ে মারা যাওয়া এক নারীর তথ্য যোগ করা হয় সেই তথ্যে। তবে ওই হাসপাতালে অপর এক রোগী মারা যান রোববার (১৩ আগস্ট)। সেই হিসেবে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু তিনজনের। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯১ জন।

সোমবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সিএসসিআরে ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে ইদ্রিস মিয়ার (৫৫) বাড়ি রাউজানের ইয়াছিন নগর ফকির পাড়া গ্রামে।

ইদ্রিসের ভাগ্নে রবিন জানান, তার মামার ব্রেন টিউমার হয়েছিল। ব্রেন টিউমার অপারেশনের পর তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চলতি বছরের ১১ আগস্ট বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে ভর্তি করানো হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পাঁচদিন পর্যন্ত ইদ্রিস মিয়ার প্রচণ্ড জ্বর ছিল। জ্বর কমে যাওয়ার পরপরই তার রক্তক্ষণ শুরু হয় শরীরে। রোববার (১৩ আগস্ট) রাতে মারা যান তার মামা।

অপরজন ৫৩ বছর বয়সী সিতারা জাহানের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে। সিএসসিআরে গত ২৮ জুলাই ভর্তি হলে পরদিন ২৯ জুলাই তিনি মারা যান। শক সিনড্রোমে তার রক্তের প্লাটিলেট অনেক কমে গেলে সিএসসিআরের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সিতারা জাহান।

এদিকে মৃত আরেক রোগী হলেন সানজিদা আকতার (৩৪)। তার বাসা চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুরে।

জানা গেছে, জ্বর নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি হন সানজিদা। পরে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তিনি কিছুই খেতে পারছিলেন না। এরপর রোববার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান তিনি।

যথাযথ ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট না হওয়ায় হেমোরেজিক শক সিনড্রেম হয়ে তার মৃত্য হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম মেডিকেলের ডেঙ্গুর ফোকাল পার্সন ও মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ জয়।

প্রায় ১৫ দিন পর সিএসসিআরের তথ্য কেন আপডেট তথ্যের সঙ্গে রাখা হলো—এমন প্রশ্নের উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কীটতত্ত্ববিদ এন্তেজার ফেরদৌস চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা সিএসসিআরকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তারা ডেঙ্গুর রোগীর পরিসংখ্যানটা আমাদের পাঠায় না। আমরা অফিসে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি ফরম্যাট। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। তারা বলে ফরম্যাট পায়নি। আমরা ১৫দিনের আগের তথ্য পেয়েছি। আর সেটাই যোগ করেছি গত ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে।’

তবে সিএসসিআরের চিফ অপারেটিং অফিসার সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা যে ফরম্যাটটি পেয়েছি সেটি বুঝতে আমাদের সময় লেগেছে। একজন রোগীর ডিটেইলস এডমিশন ফরমে সব তথ্য থাকে না। আইডি কার্ড দেখাতে পারে না। তাই রোগীর ডিটেইলস তথ্য পেতে আমাদের সমস্যা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা হেলথ অনলাইনে প্রতিদিন তথ্য পাঠাই। কিন্তু সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হয়নি তাদের ফরমের জটিলতার কারণে।’

চলতি বছরের জুলাই থেকে আগস্টে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৪ হাজার ১৪৫ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩ হাজার ৮৭৪ জন। মারা গেছে ৩৬ জন।

আইএমই/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!