চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ধরন বদলেছে, ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ শুরু হতেই বাড়ছে বিপদ
চট্টগ্রাম মেডিকেলে খোলা হয়েছে ‘ফিভার ক্লিনিক’
ধরন বদলেছে ডেঙ্গুর। এবার আগের মতো প্রচণ্ড জ্বর নয়, বরং শরীরের থাকবে মৃদু জ্বর। শরীরের গিটে গিটে অসহনীয় ব্যথার বদলে ম্যাজ ম্যাজ ভাব। নেই কোনো র্যাশ ভাব। জ্বর ওঠার দুইদিনেই বিপদ বাড়ছে রোগীর। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রোগীর। চট্টগ্রামে এখন এমনই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে। জ্বর কমলেই অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্বরের রোগীদের জন্য করা হয়েছে ‘ফিভার ক্লিনিক’।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসাধীন রয়েছে ৩৮ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৪ জন, বিআইটিআইডি ২ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩ জন, সিএমএইচে ৮ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৬ জন।
চিকিৎসকরা বলছেন, আগে ডেঙ্গু হলে তীব্র জ্বর, চোখে ব্যথা, পিঠ ও অস্থিঃসন্ধিতে প্রচণ্ড ব্যথা হতো। কিন্তু এখন সামান্য একটু জ্বর বা শরীর ম্যাজম্যাজ করে। কিন্তু দুই একদিনের মধ্যেই রোগীর অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। এছাড়াও জ্বর কমে যাওয়ার পর বা ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ শুরু হলেই আসল জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
এ সময় রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং প্লাটিলেট দ্রুত ড্রপ করার প্রবণতা বেশি। জ্বর যেদিন কমা শুরু করে, সেদিন থেকে তিনদিন পর্যন্ত সময়টা ক্রিটিক্যাল ফেজ। তাই এ সময় একটু সচেতন থাকা জরুরি। এ সময় নিয়মিত প্ল্যাটিলেট কাউন্ট করতে হবে।
এছাড়া ডেঙ্গুর নতুন নতুন লক্ষণে রোগীর লিভার, কিডনি বা মস্তিষ্ক দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে। জ্বরের চেয়ে বমি, তীব্র পেটব্যথা, পাতলা পায়খানা কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গগুলো এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
ডেঙ্গুর মূলত চারটি ভেরিয়েন্ট (ডেন–১, ২, ৩, ৪) আছে। অতীতে কোনো একটি ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্বিতীয়বার অন্য ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত হলে ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ বা শক সিনড্রোমের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত মারাত্মক। ডেঙ্গুর এ চরিত্রকেও নতুন বলা চলে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের আরপি (রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান) ডা. এসএম রিয়াসাদ শাহাবুদ্দিন চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ডেঙ্গুর ধরন কতটা বদলিয়েছে, এটি পুরোপুরি ক্লিয়ার না। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে জ্বরের গতিবিধি বোঝা যায় না। আসলে শরীরে অন্য রোগর উপস্থিতি থাকলে শরীরের তাপমাত্রা ফ্লাকচুয়েট করে। তাই ডেঙ্গুর আসল লক্ষণগুলো বয়স্ক রোগীর শরীরে প্রকাশ পায় না।
ডা. রিয়াসাত বলেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেলের মেডিসিন আউটডোরে ৩০৪ এ নং রুমে ফিভার ক্লিনিক করা হয়েছে। এখানে জ্বরের রোগী রাখা হচ্ছে। বুধবার ২০ জন জ্বরের রোগীকে আউটডোর থেকে ফিভার ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
আইএমই/ডিজে




