চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে শুধুমাত্র সেপ্টেম্বরের ১২ দিনে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গর্ভবতী নারী ও দুই শিশু রয়েছে। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক রোগীর শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। ফলে হাসপাতালগুলো রোগী চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পাঠানো প্রতিবেদনে দুই নারীর মৃত্যু কথা জানানো হয়েছে। তবে দুইজনের মৃত্যু ১১ সেপ্টেম্বর হয়েছে।
মৃত দুইজন হলেন—অর্পিতা দাশ (২৬) ও শামসুন নাহার খানম (৫০)। অর্পিতা সন্তানসম্ভবা ছিলেন। আগামী ১২ অক্টোবর তার সন্তান জন্মদানের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ ছিল। আর শামসুন নাহার খানম এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর, হাইপোভোলেমিক শক এবং এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমে তিনি মারা যান বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলতি বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জন। একইসঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৮৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। যাদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৭৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৩ জন।
আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২ হাজার ৪৫৭ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৪২৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ৪২ জন পুরুষ, ২৪ জন নারী ও ২১ জন শিশু।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আগস্টে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০২ জন, আর সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৩ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪৭ জন। একই সময়ে আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ২ জনের, সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা ৭ জন। চলতি বছরের ১২ মৃত্যুর মধ্যে ৭ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে সীতাকুণ্ডে ৩৮৫ জন, এরপর কর্ণফুলীতে ১৯৭, রাঙ্গুনিয়ায় ৯৬, বাঁশখালীতে ৯৫, রাউজানে ৬৯ এবং পটিয়ায় ৬৮ জন।
এদিকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি
চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবার প্রতিটি পরিবারকে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন রানা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
আইএমই/ডিজে




