আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভূমিকা—প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রামে ‘জ্বালানির জন-মালিকানা ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক স্থানীয় নীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল সৈকতে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি), সবুজের যাত্রা এবং সংশপ্তক’র যৌথ উদ্যোগে এতে সহযোগিতায় ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশ।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
সংলাপে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, কনজিউমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ- ক্যাব, জোরারগঞ্জ জে বি উচ্চ বিদ্যালয় এবং স্থানীয় নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
আরও অংশ নেন ‘জেট নেট-বিডি’র সদস্য সংগঠন হিসাবে -আইএসডিই, সিআরসিডি, ডিডিআরসি, উপকূল সমাজ উন্নায়ন সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিগণ।
সংলাপে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের স্থানীয় জ্বালানি বাস্তবতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে জাতীয় নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একইসঙ্গে স্থানীয় এলাকার ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি পর্যালোচনা, নাগরিক দাবিনামা উপস্থাপন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক জনগণকেন্দ্রিক সমাধানের সুযোগগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
আলোচকরা বলেন, শহরের সরকারি-বেসরকারি ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, কমিউনিটিভিত্তিক সৌর উদ্যোগ, বায়োগ্যাস ও বর্জাভিত্তিক জ্বালানি এবং জনবাস্তব জ্বালানি পরিকল্পনা এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কার্যকর সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
জেটনেট বিডি’র পক্ষ থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এবং একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন কর্মসূচির প্রোগ্রাম অফিসার নাজিয়া ইয়াসমিন। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জেটনেট-বিভির নাগরিক দাবিনামার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন।
একইসাথে তিনি চট্টগ্রাম-৬ ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, প্রসার এবং স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের তাগিদ দেন।
সংসদ সদস্যবৃন্দের বক্তব্যে সাঈদ আল নোমান এমপি দেশের জ্বালানি খাতকে ইন্টারনেটের মতো একটি সমন্বিত ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ রূপান্তরের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, যে অঞ্চলে সূর্যালোক বেশি, সেখান থেকেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ সম্ভব।
আবু সুফিয়ান এমপি দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সরকার ও জাতীয় সংসদ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে এবং যেকোনো টেকসই জ্বালানি প্রকল্পে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর করাল চাইল্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক কাজী ইকবাল বাহার সাবেরী। সংলাপে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সবুজের যাত্রা’র নির্বাহী পরিচালক সায়রা বেগম।
আলোচনায় অংশ নেন পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ চট্টগ্রামের সভাপতি কলামিস্ট মুহাম্মদ মুসা খান, ক্যাব সদস্য সেলিম জাহাংগীর, আইএসডিই প্রতিনিধি রাসেল।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রতিনিধি শুভ সাহা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিপিডিবির চলমান কার্যক্রম ও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ প্রকল্প তুলে ধরেন।
জোরারগঞ্জ জে বি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুভাস চন্দ্র সরকার তাদের প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে নির্বাহী পরিচালক লিটন চৌধুরী চট্টগ্রাম অঞ্চলকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে মডেল হিসেবে জাতীয় সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানান।




