চট্টগ্রামে চাহিদার দ্বিগুণেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, তবু সন্ধ্যা হলেই লোডশেডিং

উৎপাদন ৩৫৭৪, চাহিদা ১৪৩২ মেগাওয়াট

চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও কমছে না লোডশেডিং। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৫৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও লোডশেডিং ছিল ১৭৪ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। অথচ ওই সময়ে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪৩১ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক আচরণ করলেও রাত হলেই বদলে যায় চিত্র, আসা-যাওয়ার মধ্যেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। মূলত জাতীয় গ্রিডে বাড়তি চাপ থাকায় লোডশেডিং থেকে চট্টগ্রামবাসীর মুক্তি মিলছে না।

৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিপিডিবির চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোলের (এসসিএডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে ২৬টি সচল রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে চট্টগ্রামে। বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৪৩১ দশমিক ৭৬ মেগাওয়াট। তবে লোডশেডিং হয়েছে ১৭৪ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাত ১২টায় লোডশেডিং হয়েছে ১৩২ দশমিক ৪ মেগাওয়াট।

সন্ধ্যা হতেই লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা

সন্ধ্যার পিক আওয়ারে পিডিবির আওতাধীন এলাকায় চাহিদা ছিল ৯৪১ দশমিক ৩৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ হয়েছে ৮৪৯ দশমিক ৭৮ মেগাওয়াট। ফলে সেখানে ৯১ দশমিক ৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় চাহিদা ছিল ৪৯০ দশমিক ৩৮ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ৪০৭ দশমিক ৩৮ মেগাওয়াট। সেখানে লোডশেডিং হয়েছে ৮৩ মেগাওয়াট।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রামে লোডশেডিং দাঁড়ায় ১৭৪ দশমিক ৬ মেগাওয়াট। সন্ধ্যার ওই সময়ে চট্টগ্রামের মোট চাহিদার প্রায় ১২ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যায়নি।

তবে দিনের চিত্র ছিল ভিন্ন। বিকেল ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রামের মোট চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৪০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ—দুই ক্ষেত্রেই লোডশেডিং শূন্য দেখানো হয়েছে।

পিক আওয়ারে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে স্ক্যাডা’র নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা জামিলী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে উৎপাদনকৃত বিদুৎ জাতীয় গ্রিডে চলে যাচ্ছে। সেখান থকে চট্টগ্রাম সহজ সারাদেশে বন্টন করা হয়। জাতীয় গ্রিডে চাপ থাকায় চট্টগ্রামে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই লোডশেডিং হচ্ছে।’

মধ্যরাতেও একই চিত্র

রাত ১২টার হিসেব অনুযায়ী লোডশেডিং অব্যাহত ছিল। ওই সময়ে চট্টগ্রামের মোট চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৯৪ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয়েছে ১ হাজার ২১২ দশমিক ৫৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ১৩২ দশমিক ৪০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পিডিবি এলাকায় ৬৯ দশমিক ৮০ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ৬২ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

বড় ২ কেন্দ্রে বেড়েছে উৎপাদন

সন্ধ্যা ৭টার তথ্য অনুযায়ী, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট, এসএস পাওয়ার থেকে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট এবং শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে ২১৮ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে।

গরমে বাড়ছে ভোগান্তি

সন্ধ্যা ও রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। দিনের গরমের পর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় বাসা-বাড়িতে অস্বস্তি বাড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অনলাইনে কাজ করা মানুষ এবং ছোট ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়ছেন।

বিশেষ করে দিনের বেলায় লোডশেডিং না থাকলেও সন্ধ্যার পিক সময়ে ১৭৪ দশমিক ৬ মেগাওয়াট এবং মধ্যরাতে ১৩২ দশমিক ৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং দুর্ভেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ডিজে

ksrm