চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে দুর্ভোগ চরমে, মিলছে চাহিদার ৩০ শতাংশ

কবে ঠিক হবে, জানে না কেজিডিসিএল

চট্টগ্রামে নগরজুড়ে দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট। গ্যাস মিলছে চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ। ফলে বাসা-বাড়ি থেকে শুরু করে শিল্প কারখানায় অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে। অনেকের বাসায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের দীর্ঘলাইন দেখা গেছে নগরের বিভিন্ন রিফুয়েলিং স্টেশনে। অনেকে আট ঘণ্টা দাঁড়িয়েও গ্যাস নিতে পারেননি। এ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সেই নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে যেখানে গ্যাসের চাহিদা ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এলএনজি থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পাওয়া গেলেও তার সবটুকুই যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

মূলত এলএনজি গ্যাস স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে সারাদেশের মত চট্টগ্রামেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের প্রেসার কম থাকায় রিফুয়েলিং স্টেশনে গ্যাসে নিতে গ্রাহকদের ভীড় লেগে থাকছে। প্রয়োজনের তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ দিতে পারছে না স্টেশনগুলো।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) আওতাধীন অঞ্চলে বর্তমানে গ্যাসের ‘ফ্লো সংকট’ চলছে।

কেজিডিসিএল’র ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ১ আগস্ট দুপুরের পর থেকে আংশিক ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর বদলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে শুরু করে। গ্যাসের প্রেসার ও ফ্লো কম থাকায় পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে পড়েছে। তবে আমরা কোনো সুনিদিষ্ট তথ্য পাচ্ছি না। কখনও শুনছি ৫ আগস্টের পর ঠিক হবে, আবার কখনও শুনছি তারও পরে। তাই কবে নাগাদ ঠিক হবে তা বলা মুশকিল।

তবে ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ অবস্থা আরও ২ থেকে ৩ দিন থাকতে পারে।

এদিকে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে নগরজীবন ও শিল্পখাত কার্যত অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নগরীর অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারেনি অনেক পরিবার। বাধ্য হয়ে ইলেক্ট্রিক চুলার ওপর নির্ভর করে কিছু পরিবার দুপুরের রান্না সারলেও বেশিরভাগ পরিবার হোটেল থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন। কারও হালকা নাস্তা খেয়ে দিন কেটেছে। একইসঙ্গে গ্যাসের চাপ কম থাকায় শিল্পাঞ্চলের বহু কারখানায় উৎপাদন ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কেজিডিসিএল সূত্র জানা গেছে, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে চট্টগ্রামে। তবে মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চালু করা গেলে দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইএমই/ডিজে

ksrm