চট্টগ্রামে গ্যাস মিলছে চাহিদার অর্ধেক, ঘরে জ্বলছে না রান্নার চুলা; সিএনজি চালকদের ভোগান্তি

বাতাসের গতি বেশি, এলএনজি টার্মিনালে ভিড়তে পারছে না জাহাজ

আবারও তীব্র গ্যাস সংকটে ধুঁকছে চট্টগ্রাম নগরী। হঠাৎ করে চাহিদার তুলনায় সরবারহ কমে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে নগরীর অনেকগুলো ফিলিং স্টেশন। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস। এতে করে গ্যাসচালিত গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা চালকরা পড়েছেন শঙ্কায়। তবে নগরীর কোনো কোনো ফিলিং স্টেশনে গ্যাস মিললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

চট্টগ্রামে গ্যাস মিলছে চাহিদার অর্ধেক, ঘরে জ্বলছে না রান্নার চুলা; সিএনজি চালকদের ভোগান্তি 1
গ্যাস না থাকায় সকাল থেকে ফাকা ছিল ফিলিং স্টেশন। ছবিটি টাইগারপাস এলাকা থেকে তোলা

এই সংকট শুধু ফিলিং স্টেশনেই নয়, বাসাবাড়িতেও দিনভর গ্যাস সংকট ছিল। ফলে অনেকের ঘরে জ্বলেনি চুলা, আবার অনেকের গ্যাস থাকলেও চাপ ছিল একেবারেই কম। এতে রান্নার কাজ করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।

এদিকে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় এলএনজি টার্মিনালে জাহাজ ভিড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড সূত্র বলছে, চট্টগ্রামে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে চাহিদার প্রায় অর্ধেক গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

বুধবার (১২ জুলাই) নগরীর কদমতলী মোড়ের ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, দিনভর গ্যাস না থাকায় ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ির লম্বা লাইন। সকাল থেকে লাইনে গাড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন চালকরা। এ ফিলিং স্টেশনের গাড়ির লাইন কদমতলী পেরিয়ে সিআরবির সাত রাস্তার মোড়ও অতিক্রম করে। এতে ওই সড়কে যানজট লেগে ছিল। দিন পেরিয়ে বিকেলে গ্যাস আসলেও প্রেসার ছিল খুবই কম।

ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য অপেক্ষমাণ চালকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। তারা জানান, মাত্র দু-একদিন আগে গ্যাস সংকটে গাড়ি চালাতে হিমশিম খাওয়া থেকে কিছুটা মুক্তি মিললেও আবারও এই সংকট তাদের জীবিকা নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমনকি সারাদিনে আয় না হওয়ায় পরিবার জন্যে বাজার করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন অনেকেই। দিনশেষে গাড়ির মালিকদের দৈনিক আয় বুঝে দেওয়াও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তারা।

নগরীর টাইগারপাস মোড়ের আরেক ফিলিং স্টেশনের দৃশ্যও অনেকটা একই। সেখানে সকাল থেকেই নেই গ্যাস। চালকরা কেউ কেউ ভোর থেকে গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও, কবে নাগাদ গ্যাস পাবেন সেটাও জানে না। এসময় তারাও জানালেন ক্ষোভের কথা।

শুধু ফিলিং স্টেশনেও নয়, গ্যাস মিলছে না বাসাবাড়িতেও। ফলে সকাল থেকে অনেকের রান্নাবান্না বন্ধ ছিল। তবে বিকেলের দিকে অনেক বাসাবাড়িতে গ্যাস মিললেও প্রেসার ছিলো কম।

কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও গ্যাস সংকটের কারণ কী জানতে চাইলে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন–পেট্রোবাংলার পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ মহেশখালীর টার্মিনালে ভিড়তে পারছে না। টার্মিনালে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বাতাসের গতির একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। বর্তমানে বাতাসের গতি সেই সীমার চেয়ে বেশি। নতুন এলএনজি কার্গো টার্মিনালে ভেড়ানোর পর সরবরাহ বাড়ানো হবে।

দেলোয়ার হোসেন নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন, ‘আমি ১২টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি। ৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, এখনো গ্যাস নিতে পারিনি। কখন নিতে পারবো, সেটাও জানি না। সকালে বের হওয়ার সময় বাসা থেকে কিছু খেয়েও বের হতে পারিনি। বাসায়ও গ্যাস ছিল না। এই অবস্থা হলে আমরা চলবো কীভাবে? গ্যাস নিতে না পারলে গাড়ি চালাতে পারবো না। কিন্তু কোম্পানি তো এসব বুঝবে না, তাকে ভাড়া দিয়ে দিতে হবে।’

রহিম উল্ল্যাহ্ নামে আরেক প্রাইভেটকার চালক বলেন, ‘এই সরকার তো বৈধ সরকার, অবৈধ সরকার না। তবুও এই সরকারের আমলে ঘন ঘন গ্যাস সংকট কেন, বুঝতেছি না।’

ডিজে

ksrm