চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গণপিটুনিতে নিহত মাদক কারবারি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী নুর ইসলাম ইরানের লাশ এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তার শেষ বিদায়ের জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেননি এলাকার কেউ। শুধু তার পরিবারের ৮-১০ জন লোক জানাজায় অংশ নেন।
রোববার (২৭ জুলাই) মাগরিবের আগে ইরানের জানাজার নামাজ চলাকালীন সময়ে চারপাশে এলাকার অজস্র মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে উপজেলার ভাটেরখীল এলাকার ইরানের নেতৃত্বে নাঈম ও ইমরানকে নির্মমভাবে অত্যাচার করে। কিন্তু ইমরান টাকার বিনিময়ে বেঁচে গেলেও দারিদ্র্যতার কাছে ও সন্ত্রাসী ইরানের হিংস্রতার কাছে হার মানে নাঈম। একপর্যায়ে নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার বাড়ির সামনে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত শুক্রবার তার মৃত্যু হয়। এদিকে নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ বিরাজ করে স্থানীয়দের মাঝে। নাঈমের লাশ এলাকায় যেন ঢুকতে ও কবর দিতে না পারে সেজন্য এলাকায় ইরান বাহিনী বিভিন্ন স্থানে ককলেট বিস্ফোরণ ঘটায়।
একপর্যায়ে শনিবার মধ্যরাতে এলাকাবাসী সন্ত্রাসী ইরানকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে। তার মৃত্যুর খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আনন্দ বিরাজ করে এবং সবাই শুকরিয়া নামাজ আদায় করা হয়। এলাকার লোকজন তার নিথর দেহের মধ্যে থু-থু নিক্ষেপ ও প্রস্রাব করে দেয় এবং গরুর গোবরও ছিটায়।
নিহত নাঈমের বন্ধু ইমরান বলেন, আমার বন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে ইরান। ভাগ্য ও টাকার জোরে আমি বেঁচে গেলেও আজ আমার বন্ধু পৃথিবীতে নেই। তাকে এলাকাবাসী গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার পর এলাকায় আনন্দ বিরাজ করে। আমি ও আমার বন্ধু নাঈমকে যে পুকুর পাড়ে নৃশংসভাবে অত্যাচার করেছে, ঠিক সেই পুকুর পাড়ে তাকে কবরস্থ করা হয়েছে। কারণ এলাকাবাসী তার লাশ এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে দেয়নি।
আরেক ভুক্তভোগী হানিফ নামে এক যুবক বলেন, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী ইরানের ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দেশের সব মাদক কারবারি যেন শিক্ষা নেওয়া উচিত। ইরান চলে গেলেও ইরান বাহিনী এখনো আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। যেকোনো সময় তারা আমাদের ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ ইরান বাহিনীর হাত থেকে আমাদের এলাকাটি বাঁচান।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, এলাকার মধ্যে যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত তাদের একটি নামের তালিকা করে আমাদেরকে যেন দেন। মাদকের ব্যাপারে কোনো ছাড় নয়। ইরানের বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে।
এছাড়াও কেউ যদি হুমকি-ধমকি দেয় তাহলে থানায় অভিযোগ করতে অনুরোধ জানান তিনি।
ডিজে




