চট্টগ্রামে খাদ্যের ঠিকাদারি ভাগেযোগে খাচ্ছে ৪৬৯ জনই, টেন্ডার ছাড়াই নিয়োগ

0

দুই বছর পরপর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে খাদ্য পরিবহনের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার কথা চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এই নীতিমালা না মেনে প্রায় তিন অর্থবছর ধরে কাগজপত্রে মেয়াদ বাড়িয়ে আগের ঠিকাদারদেরই বারবার কাজ দিচ্ছে সংস্থাটি।

গত তিন বছর ধরে প্রতি তিন মাস পর পর প্রায় নয়বার এভাবে ওই ঠিকাদারদের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি আবারও নতুন করে তিন মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ দিলে সেখানে আগের ঠিকাদারের তালিকার সঙ্গে নতুন ১০ শতাংশ বাড়ানো, খাদ্য বিভাগে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতি লোকজনদের ঠিকাদারদের একচেটিয়াভাবে তাদের বলবৎ রাখা এবং পরস্পর যোগসাজশে মেয়াদোত্তীর্ণ ৪৬৯ জন ঠিকাদারের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করতেই মূলত দীর্ঘ সময় ধরে দরপত্রের মাধ্যমে নতুন পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ দিচ্ছে সংস্থাটি।

গত ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিকে সামনে রেখে নতুন করে পরিবহন ঠিকাদারদের চুক্তির মেয়াদ গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে।

জানা যায়, ২০০১ সালে সর্বশেষ ডিআরটিসি নিয়োগ করেছেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ঢাকা। ২০০৫ সালে খুলনা, সিলেট, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছে ২০১২ সালে। প্রায় আট বছর পর ২০১৮ সালে পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ দেয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক চট্টগ্রাম দফতর।

পরবর্তীতে দেশের আটটি বিভাগীয় খাদ্যাঞ্চল ও ৬৪টি জেলার সরকারি খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে প্রতি দুই বছর পরপরই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে উম্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে পরিবহন ঠিকাদার নিয়োগের নিয়ম থাকলেও অদৃশ্য কারণে মানা হচ্ছে না এসব নীতিমালা।

এ বিষয়ে জানতে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক চট্টগ্রামের জহিরুল ইসলাম খানকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও সাড়া মেলেনি। অন্যদিকে বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল কাদের বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে আবারও তিন মাসের জন্য পরিবহন ঠিকাদারদের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আমি নতুন আসছি এই দায়িত্বে। টেন্ডার না করে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোয় চিন্তা নেই। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। নতুন তিন মাসের মেয়াদ শেষের আগেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’

এএম/এমএফও

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm