চট্টগ্রামে কয়েক মিনিটেই যেভাবে চুরি হয় সিএনজি অটোরিকশা

যাত্রী সেজে নিপুণ কৌশলে অচেতন করে ফেলা হয় চালককে

0

প্রথমেই একটি সিএনজি অটোরিকশা টার্গেট করেন। এরপর ওই সেটা ভাড়া করে কিছু দূর যাওয়ার পর কোনো অজুহাত দেখিয়ে সিএনজিটি দাঁড় করান। এরপর নিপুণ কৌশলে কয়েক মিনিটের মধ্যে সিএনজিচালককে অচেতন করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে সিএনজি অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা।

এরপর শুরু হয় মূল খেলা। অজ্ঞাত বিভিন্ন ফোন নম্বর ব্যবহার করে সিএনজি মালিকের কাছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করা হয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত এভাবে দেনদরবার চলতে তাকে ৭ দিন থেকে ১০ দিন। শেষপর্যন্ত যদি টাকা মেলে, তাহলে প্রত্যন্ত কোনো এলাকায় সিএনজি রেখে মালিককে ফোন করে জানিয়ে দেয়।

চট্টগ্রামে সক্রিয় এমনই এক সিএনজি অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের কয়েকজন হোতা চট্টগ্রামের পটিয়ার শোভনদণ্ডীতে হাতেনাতে ধরা পড়ল জনতার হাতে। পরে তাদের পটিয়া থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

রোববার (১ আগস্ট) পটিয়ার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের হাতিয়ার ঘোনা বৈলতলী সড়কের রফিক মিয়া বাড়ির সামনে থেকে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল হোতাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামে কয়েক মিনিটেই যেভাবে চুরি হয় সিএনজি অটোরিকশা 1

আটক ব্যক্তিরা হলেন চন্দনাইশের মোজাহের মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ প্রকাশ হোসেন (৩০), আব্দুল আজিজের ছেলে জিয়াউল হক (২২), আনোয়ার ইসলাম প্রকাশ বাবুর ছেলে সাদ্দাম হোসেন সজিব (১৯) এবং জুনু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ মনির হোসেন (২৬)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ২টি চোরাই সিএনজি এবং সিএনজি চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নুর মোহাম্মদ সিএনজি অটোরিকশা চোরচক্রের অন্যতম মূল হোতা।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সিএনজি অটোরিকশা চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা অভিনব কৌশল প্রয়োগ করে সিএনজি চুরি করতেন। সাধারণত ভোরে অথবা গভীর রাতে সিএনজি চুরি করতেন তারা।

এ ব্যাপারে পটিয়া থানার সেকেন্ড অফিসার (উপ-পরিদর্শক) হিরু বিকাশ জানান, কৌশলে সিএনজি অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটলেও এতদিন এদের ধরা সম্ভব হচ্ছিল না। আমাদের পুলিশ টিমের সদস্যরা নানা মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ঘরে সংঘবদ্ধ চক্রটিকে ধরার জন্য কাজ করে আসছিল।

রোববার শোভনদন্ডী এলাকা থেকে দুটি সিএনজি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা টের পেলে তাদের ধাওয়া করে চক্রের হোতাসহ চারজনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। আমরা তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসি। তাদের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাই মামলা দায়ের করে দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নেওয়া গেলে এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যদের ধরা যাবে।

সিপি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm