চট্টগ্রামে কাঁচা মরিচের ‘ডাবল সেঞ্চুরি’, সবজির বাজারে আগুন
বেড়েছে ডিম, মুরগি ও মাছের দামও
চট্টগ্রামের নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির দেখা মিলছেই না। দুই-একটি সবজি ছাড়া অন্য সব সবজির দাম ‘সেঞ্চুরি’ হাঁকিয়েছে। এর মধ্যে কাঁচামরিচ ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ পেরিয়ে ‘থ্রিপল সেঞ্চুরি’র পথে। সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে টমেটোও। সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মাছ, ডিম ও মুরগির দাম। একইসঙ্গে প্রকারভেদে মিঠাপানি ও নদী পানির মাছ কিনেতে হলে ক্রেতাদের ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে।

রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
নগরীর চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেটের সবচেয়ে কম দামি সবজি হয়েছে দাঁড়িয়েছে পটল ও ঢেরশ। তবে তা কিনতে হলেও গুণতে হবে সর্বনিম্ন ৭০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা। আর ঝিঙা, কাঁকরোল, তিতা করলা, বাঁধাকপি, বরবটি—এসব যেন বড়লোকের বড়পাতের খাবার। এই সবকটি সবজির দাম শত টাকার ঘর পেরিয়েছে। আর রান্নার অন্যতম অনুষঙ্গ কাঁচামরিচের দাম পৌঁছেছে ২৮০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।
মাছ-মাংসের বাজার দর তো আরও উচ্চ বিলাসী কারবার। বাজারের সবচেয়ে কমদামি লইট্টা মাছের দামও তিনশর ঘরে। প্রতিকেজি লইট্টা মাছের দাম ২৫০ টাকা। কাতল, চিংড়ি, রুই, পাবদাসহ মিঠাপানি ও নদী পানির এসব মাছের দাম ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার অঙ্কের ঘরে গিয়ে ঠেকেছে। নদীর পাঙ্গাস ৮০০টাকা ,চাগা চিংড়ি ১১০০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, রুই মাছ ৪০০ আর কাতাল মাছ ৫৫০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা করে। গরুর মাংসের দাম ৯০০ টাকা, আর খাসির মাংস ১১৫০ টাকা।
বাজার দরের এমন পরিস্থিতিতে যে, ৫০০ টাকার একটি নোট নিয়ে বাজারে আসলে ভালো মতো দুটি সবজিও কেনা যাবে না। মাছ, মাংস কেনা তো একেবারে দুঃসাধ্য ব্যাপার।
সকালে বাজার করতে এসেছিলেন মোহাম্মদ ইসলাম মিঞা, তিনি একজন গ্যারেজ মেকানিক। তার আয়ে ভর করে চলে চার সদস্যের পরিবার। সকালে ৫০০ টাকা নিয়ে এসেছেন বাজারে। এই টাকায় এককেজি মাছও কিনতে পারেননি তিনি। ফলে দু-একটি সবজি কিনে ফিরে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমি মেকানিকের কাজ করি। প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে আয় হয় আমার। সে আয়ের ওপর নির্ভর করে চালাতে হয় সংসার। বাজারে এসে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম । কী কিনবো? কোনো কিছুই আমার সাধ্যের মধ্যে নেই।
শুধু ইসলাম মিঞা নয়, এই বাজারে আসা প্রতিটি ক্রেতার মধ্যে রয়েছে আক্ষেপের সুর। তাদের ভাষ্য, একসময় ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায় ব্যাগভর্তি বাজার করা গেলেও, এখন দুই-তিনহাজার টাকা খরচ করেও ব্যাগভর্তি বাজার করা দুঃস্বপ্নের ব্যাপার।
অনেক ক্রেতা বলছেন, চাকরি করে মাস শেষে যে টাকা বেতন পান, তাতে বাজার করাসহ পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। প্রায় সময় বাজারে মাছ কিনতে এসে, শুধু ডিম কিনেই ঘরে যেতে হয়।
বাজার দরের ঊর্ধ্বগতিতে শুধু ক্রেতারাই নয়, ভালো নেই বিক্রেতারাও। তারাও বলছেন, একসময় বেচাকেনা বেশি থাকলেও এখন দামের কারণে বেচাকেনা একেবারে কমে গেছে। ক্রেতারা যেখানে আগে ১ কেজি সবজি কিনতো সেখানে এখন আধ কেজিতেই সন্তুষ্ট থাকছেন। এছাড়াও সবজি, মাছ মাংস বিক্রি করে তারা যে টাকা আয় করেন, দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে নিজেদের পরিবারের খরচ মেটাতেও বিপাকে পড়েছেন।
বাজারের এমন দৃশ্য কেবল কাঁচাবাজার কিংবা মাছ, মাংসের বাজারের নয়। নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি দ্রব্যের দাম এখন মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর নাগালের বাইরে। ফলে ইট-পাথরের এই শহরে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাটাই যেন বড় লড়াই।
ডিজে




