চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ৩৯ হাজার ৭৯৮ পরীক্ষার্থী মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি আবেদন করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ইংরেজি ও গণিতে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ইংরেজিতে ২০ হাজার ৪০০টি এবং গণিতে ১৩ হাজার ৮২৮টি আবেদন জমা পড়েছে। এছাড়া বাংলায় ৭ হাজার ৭৭১টি, পদার্থবিজ্ঞানে ৬ হাজার ৮২৩টি, জীববিজ্ঞানে ৪ হাজার ৫৫৯টি, রসায়নে ৪ হাজার ৫৩৫টি এবং উচ্চতর গণিতে ৪ হাজার ৪৪০টি আবেদন করা হয়েছে।
গত ১০ আগস্ট সারাদেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা ২০১০ সালে সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা চালুর পর এ বোর্ডের সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে এ বছর চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন এবং ফেল করেছে ৫২ হাজার ৭৬৬ জন। এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২৮ হাজার ৭৭১ জন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও গণিতেই অকৃতকার্যের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৬৬ জন। এর মধ্যে ফেল করেছে ৩৫ হাজার ৮৭৬ জন। অন্যদিকে গণিতে পরীক্ষা দিয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫ জন, যার মধ্যে ফেল হয়েছে ২৫ হাজার ৭৮৩ জন।
ফল প্রকাশের পর ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণ করা হয়। এবার পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের মতো শুধু নম্বর যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পাশাপাশি এবার উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ভুল হয়েছে কি-না, সেটিও দেখা হবে। এজন্য চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রায় ২৮৭ জন পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ইংরেজি ও গণিতের পরীক্ষকের সংখ্যাই বেশি।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানান, আগে পুনঃনিরীক্ষণের সময় শুধু প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল আছে কি না, তা যাচাই করা হতো। এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আইএমই/ডিজে




