চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় আট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২০২৫ সালে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তবে পরীক্ষার্থী কম হলেও একজনও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষক সংকট ও অ্যাকাডেমিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তালিকা অনুযায়ী—ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল থেকে মাত্র ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বরকলের আন্দর মানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুলে পরীক্ষার্থী ছিল ১০ জন, লংগদুর মোহালছড়ি হাইস্কুলে ১৫ জন, সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুল থেকে ১০ জন, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৭ জন এবং দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুল থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি।
এছাড়া দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল থেকে ৫ জন এবং বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল থেকে ৫ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানেও পাসের হার শূন্য শতাংশ।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফলেও পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আলাদাভাবে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত বছর ছিল ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্ন পাসের হার হয়েছে।
একইসঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জনে, যা গত বছর ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।
এএএম/ডিজে




