চট্টগ্রামে এমবিবিএস পরীক্ষার গোপন কক্ষে ঢুকে ছয় ছাত্রদল নেতার ‘নাম্বার টেম্পারিং’!

অভিযোগ তদন্তে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

পরীক্ষার ফলাফল চূড়ান্ত হওয়ার আগে যেখানে থাকার কথা শুধু পরীক্ষকদের, সেই গোপন নম্বরিং কক্ষেই তৃতীয় ব্যক্তির অননুমোদিত প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষা, নভেম্বর-২০২৫-এর সার্জারি প্রথম পত্রের মৌখিক, ব্যবহারিক ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ঘিরে এমন অভিযোগ এখন তদন্ত করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই কক্ষে বিএনপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নেতা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের কনসালটেন্ট সার্জন ডা. ঈসা চৌধুরীর উপস্থিতিতে ছাত্রদলের ছয়জন নেতার নম্বর পরিবর্তন বা টেম্পারিং করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজের ডিন (সার্জারি) অধ্যাপক ডা. মাসুদ করিমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষার্থীদের নম্বর চূড়ান্ত করার গোপন নাম্বারিং কক্ষে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি গুরুতর অনিয়ম।

জানা গেছে, গত ৪ থেকে ৭ জুলাই চট্টগ্রামের বেসরকারি মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজে চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষা, নভেম্বর-২০২৫-এর সার্জারি প্রথম পত্রের মৌখিক, ব্যবহারিক ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইউনুস হারুন চৌধুরী, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. সাইফুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এয়াকুব হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ইমরুজ উদ্দিন।

কী ঘটেছিল

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুলাই লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে পরীক্ষকদের গোপন নাম্বারিং কার্যক্রম চলাকালে বিএনপি-সমর্থিত ড্যাব নেতা ডা. ঈসা চৌধুরী ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তার উপস্থিতিতেই ছাত্রদলের ছয়জন নেতার নম্বর পরিবর্তন বা টেম্পারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. অজয় দেব মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের কনসালটেন্ট সার্জন ডা. ঈসা চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমি তো গোপন কক্ষে ঢুকিইনি। আমি ওইদিন সেখানে রোগী দেখতে গিয়েছিলাম। পরীক্ষার সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এগুলো দুয়েকজন আওয়ামী ফ্যাসিস্টপন্থী টিচার ও একজন বিএনপিপন্থী টিচারের প্রপাগান্ডা। সামনে ড্যাবের কমিটি হবে। এটাও আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের একটি কারণ।’

কী বলছে কর্তৃপক্ষ

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমরাও বিষয়টি সেভাবেই জেনেছি। আমাদের কাছে কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি। তবু পত্রিকায় আসার পর বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

সিপি

ksrm